বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম চড়া রাখতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার কৌশল বদলেছে ইরান। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
তাদের দাবি, সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পর্যায়ে অনুমোদিত এই নতুন কৌশল প্রায় ১০ দিন আগে কার্যকর করা হয়েছে।
ইরানি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, নতুন কৌশলে জাহাজে হামলার সংখ্যা ও পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। তেহরানের আরোপিত বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করছে বলে যেসব জাহাজকে মনে করা হচ্ছে, সেগুলোকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হচ্ছে।
এর পাশাপাশি অভিযান শুধু হরমুজ প্রণালিতে সীমাবদ্ধ না রেখে ওমান উপসাগর ও আশপাশের জলসীমায় ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ইরান। এতে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে।
রয়টার্সকে এক ইরানি কর্মকর্তা বলেন, নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যাতে তেলের দাম কমাতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে চায় তেহরান।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল করার চেষ্টায় বিঘ্ন ঘটানো এই কৌশলের অন্যতম উদ্দেশ্য।
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম দেশটির অর্থনীতি ও ভোটারদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাই তেলের দাম দীর্ঘ সময় চড়া থাকলে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরি হতে পারে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। এ পথে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়।
জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। এতে তেলের দাম, পরিবহন ব্যয় ও জাহাজের বিমা খরচ বাড়ার ঝুঁকি থাকে।
ওমান উপসাগরেও অভিযান ছড়ালে সামুদ্রিক নিরাপত্তার ঝুঁকি আরও বিস্তৃত হতে পারে। তখন শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, জ্বালানি আমদানিনির্ভর এশিয়ার দেশগুলোর ওপরও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


