সামাজিক মাধ্যমের অপব্যবহার করে ইউরোপীয় নেতাদের বিরুদ্ধে পদ্ধতিগতভাবে ‘অনলাইন হয়রানিমূলক প্রচারাভিযান’ চালানোর জন্য বিশ্বের শীর্ষ ধনী ও এক্স প্রধান ইলন মাস্কের বিরুদ্ধে কড়া অভিযোগ তুলেছেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো। আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিদেশি হস্তক্ষেপের আশঙ্কা প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার এক সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র রক্ষায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর ভূমিকা ও এর নেতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি দুর্বল করতে সচেষ্ট পক্ষগুলো বর্তমানে তথ্য ও প্রযুক্তির পরিধি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করছে এবং জনপরিসরের বিতর্কে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভাজন তৈরি করছে।
তার মতে, এই ধরনের অপতৎপরতার কারণে পশ্চিমা বিশ্বে কর্তৃত্ববাদী ও ডানপন্থি রাজনৈতিক আন্দোলনগুলো দিন দিন শক্তিশালী হয়ে উঠছে, যা প্রকারান্তরে গণতন্ত্রের মূল শত্রুদের এজেন্ডাই বাস্তবায়ন করছে।
ফ্রান্সের নির্বাচন ও বহিরাগত হস্তক্ষেপের শঙ্কা
ফ্রান্সের আসন্ন ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কট্টর ডানপন্থী নেতা মেরিন লে পেনের সম্ভাব্য এগিয়ে থাকার প্রসঙ্গ টেনে বারো বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করতে নানা ফন্দি আঁটছে কুচক্রী মহল। অভিবাসন সংকট, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলোকে কাজে লাগিয়ে সমাজে ঘৃণা ও বিভেদ ছড়ানোর চেষ্টা চলছে।
এর আগে, ইসরায়েলি একটি কোম্পানির বিরুদ্ধে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে গাজা যুদ্ধ নিয়ে ফরাসি জনমত প্রভাবিত করার অভিযোগ এবং নিউ ক্যালেডোনিয়ার দাঙ্গায় উত্তেজনা ছড়ানোর পেছনে আজারবাইজানের ভূমিকার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
ইলন মাস্কের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি অভিযোগ
বিশেষ করে ইলন মাস্কের কঠোর সমালোচনা করে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সামাজিক মাধ্যমে কোনো তথ্য মুহূর্তেই ভাইরাল করার যে ক্ষমতা রয়েছে, সেটিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন ইলন মাস্ক। ইউরোপীয় নেতাদের কোণঠাসা করতে তিনি তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনলাইন হয়রানিমূলক প্রচার চালাচ্ছেন।
ফ্রান্সে সাম্প্রতিক ছাত্র বিক্ষোভ এবং ট্রেড ইউনিয়নের আন্দোলনগুলোর পেছনেও রাশিয়া, চীন, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ আন্দোলনের সাথে জড়িত বিভিন্ন পক্ষের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, এসব গোষ্ঠী পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শত্রুতাপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর বয়ান ছড়িয়ে দিচ্ছে।
বক্তব্যের শেষাংশে কঠোর বার্তা দিয়ে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিদেশি কোনো ধরনের অবৈধ হস্তক্ষেপ সরকার কখনোই বরদাস্ত করবে না এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।


