...|...|...

বিশ্ব

সংখ্যালঘুদের ইস্যুতে বাংলাদেশ পদক্ষেপ নেবে, প্রত্যাশা ভারতের

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১২:৫৪
Shares
সংখ্যালঘুদের ইস্যুতে বাংলাদেশ পদক্ষেপ নেবে, প্রত্যাশা ভারতের

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, হত্যা ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে ভারত। এসব ঘটনার সমাধানে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে প্রত্যাশা করছে দেশটি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ প্রত্যাশার কথা জানান। বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা, বাংলাদেশ এসব বিষয় সমাধানে পদক্ষেপ নেবে।’

সংবাদ সম্মেলনে ওই সাংবাদিক বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের একটি বিবৃতির প্রসঙ্গ তোলেন। সংগঠনটির অভিযোগ অনুযায়ী, দুর্গাপূজা ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি বলেও বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানান ওই সাংবাদিক।

এর আগে বুধবার মনীন্দ্র কুমার নাথের পাঠানো এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ জানায়, কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সারা দেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনের পরিস্থিতি দুঃখজনক ও দুর্ভাগ্যজনক। সংগঠনটির দাবি, সাম্প্রদায়িক দুর্বৃত্তদের তৎপরতা ক্রমেই বাড়ছে।

বিবৃতিতে চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসের আংশিক চিত্র তুলে ধরে সংগঠনটি জানায়, এ সময়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে ১৬টি। ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানির ঘটনা চারটি এবং মন্দিরে হামলা, লুটপাট, জায়গা দখল ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে ৩৬টি।

এ ছাড়া কথিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ছয়জনকে আটক করার কথা উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের ওপর হামলার সাতটি ঘটনা, বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ১১টি ঘটনা এবং হামলা, ছিনতাই, ডাকাতি ও মারধরের ২৬টি ঘটনার তথ্য দিয়েছে সংগঠনটি।

বিবৃতিতে জমি ও সম্পত্তি দখলের ১৪টি, অপহরণ, হত্যার হুমকি ও হয়রানির তিনটি এবং চাঁদাবাজির চারটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যান্য ধরনের ঘটনা ঘটেছে ১৪টি বলে দাবি করেছে ঐক্য পরিষদ।

এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনে বিমসটেকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পরিবর্তে স্বরাষ্ট্রসচিব অংশ নেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন এক সাংবাদিক।

এ সময় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের পর্যায় নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি এর আগে ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।

জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বিমসটেকের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সংলাপ সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আয়োজনে ওই বৈঠকে সংস্থাটির সব সদস্যদেশ অংশ নেয় এবং বৈঠক শেষে দিল্লি ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়।

তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসবাদ, মাদক ও অর্থপাচার প্রতিরোধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে সদস্যদেশগুলো অঙ্গীকার করেছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে সহযোগিতার সুযোগও চিহ্নিত করা হয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের প্রত্যাশা, এই উদ্বোধনী সংলাপের মধ্য দিয়ে বিমসটেকের সদস্যদেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। বাংলাদেশসহ সংস্থাটির অন্য সদস্যদেশগুলোর প্রতিনিধিরাও বৈঠকে অংশ নিয়েছেন বলে জানান তিনি।