২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে ভারতের। পাশাপাশি ব্রাজিল, উরুগুয়ে কিংবা পানামার মতো দলের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ তৈরি হলেও আসিয়ান কাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছিল ভারতীয় ফুটবল দল।
তবে মাঠের ব্যর্থতা সত্ত্বেও বিশ্বকাপের বিশাল বাণিজ্যিক সাফল্যের সুফল পেতে যাচ্ছে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ)। ফিফার নতুন প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে আগামী চার বছরে প্রায় ২৩৭ কোটি রুপি পেতে পারে ভারতের ফুটবলের এই নিয়ামক সংস্থা।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা (এপি)-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০৩০—এই চার বছরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলের সার্বিক উন্নয়নে রেকর্ড ৬.৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচের পরিকল্পনা করছে ফিফা।
এই প্রস্তাবের আওতায় ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের প্রতিটি ফুটবল ফেডারেশনকে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৩৭ কোটি রুপি) করে অনুদান দেওয়া হবে। আগে চার বছরের চক্রে সদস্য দেশগুলো পেত প্রায় ১ কোটি ডলার। সেই তুলনায় এবার সহায়তা বাড়ছে আড়াই গুণ।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো ছয়টি মহাদেশীয় ফুটবল কনফেডারেশনের প্রধানদের কাছে পাঠানো চিঠিতে এই ঐতিহাসিক পরিকল্পনার কথা জানান।
চিঠিতে ইনফান্তিনো লেখেন, 'ফিফার বাণিজ্যিক ও আর্থিক সাফল্যকে ফুটবলের মাঠ এবং ২১১টি সদস্য সংস্থার উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে। বিশ্বজুড়ে ফুটবলের টেকসই অগ্রগতি নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ।'
উল্লেখ্য, আগামী ২০২৭ সালের ১৮ মার্চ ফিফার ৭৭তম কংগ্রেসে নতুন সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন বর্তমান সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো। বিশ্বকাপের স্বত্ব বিক্রি ও বাণিজ্যিকীকরণের চেষ্টার অভিযোগে ইউরোপীয় ফুটবল মহলে কিছুদিন ধরে সমালোচনার মুখে ছিলেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে সদস্য দেশগুলোর জন্য আর্থিক অনুদান বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়ার এই পদক্ষেপ ইনফান্তিনোর রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্ত করবে।
আগামী ডিসেম্বরে ফিফা কাউন্সিলে এই প্রস্তাবে অনুমোদন পাওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ২০২৭ সালের মার্চে ফিফা কংগ্রেসে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে পাস হলে বিশাল এই অর্থের সুবিধা পাবে ভারত।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, এই অনুদান পেলে ভারতীয় ফুটবলের অবকাঠামো উন্নয়ন, একাডেমি পরিচালনা এবং তৃণমূল পর্যায়ে ফুটবল প্রসারে বড় ধরনের জোয়ার আসবে।

