...|...|...

বিনোদন

হঠাৎ কেন পারিশ্রমিক কমালেন সালমান

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৩:৩৭ | আপডেট: ২৭ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৪:৪৭
Shares
হঠাৎ কেন পারিশ্রমিক কমালেন সালমান

বলিউড অভিনেতা সালমান খান। ছবি: সংগৃহীত

কাজের বিনিময়ে পারিশ্রমিক হিসেবে একেকটি সিনেমার জন্য ১২০ থেকে ১৪০ কোটি টাকা দাবি করেন সালমান খান। বলিউডের সর্বোচ্চ আয়কারী তারকাদের তালিকায় চিরকালই শীর্ষে থাকে তার নাম। সেই সালমান খানই এবার নিজের চেনা ছক ভাঙলেন। প্রযোজকদের বিপুল স্বস্তি দিয়ে নিজের পারিশ্রমিক থেকে সরাসরি ৫০ কোটি টাকা কমিয়ে ফেলেছেন তিনি। কিন্তু কোটি কোটি টাকার এই আত্মত্যাগের পেছনে কারণ কী? জানা গেছে, এক বিশেষ বন্ধুর খাতিরেই এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই তারকা।

পরিচালক বংশী পাইডিপল্লীর আগামী মেগা প্রজেক্ট ‘SVC 63’-তে মুখ্য চরিত্রে দেখা যাবে সালমানকে। ২০২৭ সালের ঈদকে সামনে রেখে নির্মিত হতে যাওয়া এই সিনেমার জন্য সালমান স্বাভাবিক পারিশ্রমিকের তুলনায় অনেক কম টাকা নিচ্ছেন। একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই সিনেমার জন্য ১২০ কোটি বা তার বেশি ফি নেওয়ার বদলে সালমান মাত্র ৭০ কোটি টাকায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।

ইন্ডাস্ট্রি সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, সালমানের এই অপ্রত্যাশিত ছাড়ের পেছনে রয়েছে তার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু রফি কাজীর অবদান। সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানায়, ‘গত দুই দশক ধরে সিনেমাপ্রতি সালমানের বাজারদর ১২০ কোটি টাকার বেশি। কিন্তু ‘SVC 63’ সিনেমার প্রযোজকদের তিনি যে বিরাট আর্থিক ছাড় দিয়েছেন, তার একমাত্র কারণ তার পুরোনো বন্ধু রফি কাজী। রফি এই প্রজেক্টের সাথে যুক্ত এবং প্রযোজক হিসেবেও তার নাম থাকবে। শুধু বন্ধুর সম্মানেই সালমান নিজের পারিশ্রমিকে এত বড় কাটছাঁট করতে রাজি হয়েছেন।’

তবে সালমান কেবল নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক বা ‘আপফ্রন্ট ফি’-তেই সন্তুষ্ট থাকছেন, নাকি সিনেমার লভ্যাংশেরও (প্রফিট শেয়ারিং) কোনো অংশ নিচ্ছেন-তা এখনও স্পষ্ট নয়।

গত দেড় দশক ধরে নিজের কাজের ব্যবসায়িক মডেলে বিশেষ নজর দিয়ে আসছেন ‍সালমান। ২০১০ সালের ‘দাবাং’ সিনেমার পর থেকে তার প্রায় সব সফল সিনেমাই নির্মিত হয়েছে নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা‘সালমান খান ফিল্মস’ (এসকেএফ) বা পরিবারের সদস্যদের ব্যানারে। ‘দাবাং’-এর প্রযোজক ছিলেন ভাই আরবাজ খান, আবার ‘বডিগার্ড’ সিনেমার নেপথ্যে ছিলেন বোন আলভিরা খান আগ্নিহোত্রী।

এমনকি বাইরের কোনো প্রযোজনা সংস্থার সাথে কাজ করলেও সালমান সিনেমার ডিজিটাল (ওটিটি) ও স্যাটেলাইট স্বত্ব নিজের কাছে রাখতেন, যার বাজারমূল্য একাই প্রায় ১২০ থেকে ১৪০ কোটি টাকা ছুঁয়ে যেত। যশ রাজ ফিল্মসের ‘টাইগার’ ফ্র্যাঞ্চাইজির ক্ষেত্রেও বিশেষ লভ্যাংশ চুক্তি পেতেন তিনি, যা ইন্ডাস্ট্রিতে কেবল শাহরুখ খানের ক্ষেত্রেই দেখা যায়। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে বন্ধুর জন্য সালমানের এই মোটা অঙ্কের ছাড়ের সিদ্ধান্ত এক বিরল দৃষ্টান্ত তৈরি করল।