...|...|...

বিনোদন

গুলতেকিন থেকে শেহতাজ: বাংলা শোবিজ অঙ্গনে আলোচিত যেসব বিচ্ছেদ

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৪:৩৬ | আপডেট: ৫ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৪:৩৭
Shares
গুলতেকিন থেকে শেহতাজ: বাংলা শোবিজ অঙ্গনে আলোচিত যেসব বিচ্ছেদ

বাংলাদেশি শোবিজ এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তারকাদের বিবাহবিচ্ছেদ সবসময়ই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

গত কয়েক দশকের মধ্যে হুমায়ূন আহমেদ ও গুলতেকিন খানের বিচ্ছেদ যেমন পুরো দেশকে নাড়া দিয়েছিল, তেমনি সম্প্রতি প্রীতম হাসান ও শেহতাজ মনিরা হাশেমের বিচ্ছেদের ঘোষণা ভক্তদের মাঝে নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে।

নিচে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও বিনোদন জগতের অন্যতম আলোচিত কিছু বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা তুলে ধরা হলো:

হুমায়ূন আহমেদ ও গুলতেকিন খান: ১৯৭৩ সালে নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে গুলতেকিন খানের বিয়ে হয়। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত বিচ্ছেদ হচ্ছে এটি। দীর্ঘ তিন দশকের সফল দাম্পত্য জীবন ও চার সন্তানের জনক-জননী হওয়া সত্ত্বেও ২০০৩ সালে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে হুমায়ূন আহমেদ মেহের আফরোজ শাওনকে বিয়ে করেন।

হুমায়ূন ফরীদি ও সুবর্ণা মুস্তাফা: আশির দশকে (১৯৮৪ সালে) বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন মঞ্চ ও পর্দার দুই কিংবদন্তি অভিনয়শিল্পী হুমায়ূন ফরীদি ও সুবর্ণা মুস্তাফা। দীর্ঘ ২৪ বছর অত্যন্ত সফলভাবে সংসার করার পর ১৮ মার্চ ২০০৮ তারিখে সুবর্ণা মুস্তাফা ডিভোর্স নোটিশ পাঠানোর মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক দাম্পত্যের অবসান ঘটান।

দিতি ও সোহেল চৌধুরী: ঢালিউডের অন্যতম চমৎকার ও জনপ্রিয় জুটি ছিলেন দিতি ও সোহেল চৌধুরী। ভালোবেসে বিয়ে করলেও নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে তাদের সম্পর্কে ফাটল ধরে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে । বিচ্ছেদের পরও তারা সন্তানদের কথা চিন্তা করে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন।

বাপ্পা মজুমদার ও মেহবুবা মাহনূর চাঁদনী: ২০০৮ সালের মার্চ মাসে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী বাপ্পা মজুমদার ও মডেল-নৃত্যশিল্পী চাঁদনী বিয়ে করেছিলেন । দীর্ঘ ১০ বছর সংসার করার পর মতের অমিলের কারণে ৯ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে তাদের অফিশিয়াল বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়।

তাহসান রহমান খান ও রাফিয়াত রশিদ মিথিলা: ২০০৬ সালে ভালোবেসে বিয়ে করেন তাহসান-মিথিলা।  তরুণ প্রজন্মের কাছে তারা ছিলেন আদর্শ জুটি বা 'আইডল কাপল'। গান এবং নাটকে একসাথে সফল এই জুটি দীর্ঘ ১১ বছর সংসার করার পর ২০১৭ সালের মে মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে আলাদা হয়ে যান। তাদের এই বিচ্ছেদ ভক্তদের মাঝে দীর্ঘস্থায়ী শোক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস: ঢালিউডের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল অন-স্ক্রিন রোমান্টিক জুটি। ২০০৮ সালে গোপনে বিয়ে করার পর প্রায় ৮ বছর তারা খবরটি লুকিয়ে রাখেন। ২০১৭ সালে অপু বিশ্বাস সন্তানসহ একটি টিভি লাইভে হাজির হয়ে বিয়ের খবর ফাঁস করেন। এর কিছুদিন পরই নানা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে ২০১৮ সালের শুরুতে তাদের অফিশিয়াল বিচ্ছেদ ঘটে।

জিয়াউল ফারুক অপূর্ব ও নাজিয়া হাসান অদিতিয়া: ছোটপর্দায় রাজত্ব করা অভিনেতা অপূর্বর সাথে অদিতিয়ার ৯ বছরের অত্যন্ত সাজানো ও সুখী দাম্পত্য জীবন ছিল। তবে ২০২০ সালের মে মাসে তারা পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেন।

হাবিব ওয়াহিদ ও রেহান চৌধুরী: জনপ্রিয় পপ ও ফিউশন সংগীতশিল্পী হাবিব ওয়াহিদ ২০১১ সালে রেহানকে বিয়ে করেন। তবে তাদের দাম্পত্যের টানাপোড়েন ও বিভিন্ন ব্যক্তিগত কারণে ২০১৭ সালের শুরুতে তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। এর আগে ২০০৩ সালে হাবিবের প্রথম বিয়ে লুবায়না নামের একজনের সাথে হলেও তা দ্রুত ভেঙে গিয়েছিল।

জাকিয়া বারী মম ও শিহাব শাহীন: লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার জাকিয়া বারী মম এবং দেশের শীর্ষ নাট্যনির্মাতা ও পরিচালক শিহাব শাহীন একসাথে অসংখ্য জনপ্রিয় নাটক উপহার দিয়েছেন (যেমন: 'নীলপ্রজাপতি', 'এক্স ফ্যাক্টর')। ২০১৫ সালের ২০ নভেম্বর তারা গোপনে বিয়ে করেছিলেন, যা পরে ২০১৯ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে সবার সামনে প্রকাশ করেন। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে পারস্পরিক দূরত্বের কারণে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। তবে তারা বিষয়টি অত্যন্ত গোপন রেখেছিলেন এবং ২০২২ সালের শেষের দিকে সংবাদমাধ্যমে তাদের বিচ্ছেদের খবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন।

এস আই টুটুল ও তানিয়া আহমেদ: ১৯৯৯ সালে বিয়ের পর শোবিজের অন্যতম অনুকরণীয় দম্পতি হিসেবে দীর্ঘ ২৩ বছর একসাথে কাটানোর পর ২০২১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আলাদা হন

শরিফুল রাজ ও পরীমণি: গুণীন চলচ্চিত্রের শুটিং সেটে মাত্র ৭ দিনের পরিচয়ে ২০২১ সালের শেষের দিকে তারা বিয়ে করেন। সন্তান জন্মের পর থেকেই তাদের পারিবারিক কলহ, ফেসবুক লাইভ, এবং কাদা ছোড়াছুড়ি মিডিয়াতে নিয়মিত খবর হতে থাকে। অবশেষে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে পরীমণি রাজকে ডিভোর্স নোটিশ পাঠান।

চয়নিকা চৌধুরী ও অরুণ চৌধুরী: পর্দার অভিনেতা-অভিনেত্রী না হলেও বাংলা নাটকের পেছনের অন্যতম সেরা জুটি ছিলেন নাট্যনির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী এবং প্রখ্যাত নাট্যকার ও সাংবাদিক অরুণ চৌধুরী। তাদের জুটিবদ্ধ বহু নাটক দর্শকদের কাঁদিয়েছে-হাসিয়েছে। ১৯৯০ সালে ভালোবেসে তারা ঘর বেঁধেছিলেন। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় একসাথে থাকার পর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের মাঝে পারিবারিক দূরত্বের সৃষ্টি হয় এবং তারা আনুষ্ঠানিকভাবে আলাদা হয়ে যান, যা নাট্যাঙ্গনের দীর্ঘতম দাম্পত্যগুলোর একটির অবসান ঘটায়।

তাহসান রহমান খান ও রোজা আহমেদ: মিথিলার সাথে বিচ্ছেদের পর ২০২৫ সালের ৪ জানুয়ারি তাহসান খান মেকআপ আর্টিস্ট রোজা আহমেদকে বিয়ে করে নতুন জীবন শুরু করেছিলেন। তবে তাদের এই দ্বিতীয় সংসারটি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ২০২৫ সালের জুলাই থেকেই তারা আলাদা থাকতে শুরু করেন এবং ১০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে তাহসান খান তাদের চূড়ান্ত বিচ্ছেদের বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে নিশ্চিত করেন।

জিনাত সানু স্বাগতা ও রাশেদ জামান: স্বাগতা বাংলা নাটকের অত্যন্ত পরিচিত মুখ, অভিনেত্রী ও উপস্থাপিকা। অন্যদিকে রাশেদ জামান দেশের একজন নামকরা চিত্রগ্রাহক (সিনেমাটোগ্রাফার), যিনি 'আয়নাবাজি' সিনেমার ক্যামেরার পেছনের জাদুকর। ৭ বছর প্রেমের পর ২০১৫ সালে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ৬ বছর সংসার করার পর ২০২০ সালের শেষের দিকে পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাবে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে, যা ২০২২ সালের ডিসেম্বরে স্বাগতা সংবাদমাধ্যমের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন।

দেবাশীষ বিশ্বাস ও তানিয়া হোসাইন: দেবাশীষ বিশ্বাস নাট্য ও চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং তানিয়া হোসাইন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও উপস্থাপিকা। ২০১০ সালে বিনোদন জগতের এই দুই ব্যক্তিত্ব ভালোবেসে বিয়ে করেন ।বিয়ের মাত্র এক বছরের মাথায় পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝির জেরে ২০১১ সালে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তীতে তানিয়া হোসাইন ২০১৮ সালে সংগীতশিল্পী বাপ্পা মজুমদারকে বিয়ে করেন ।

প্রীতম হাসান ও শেহতাজ মনিরা হাশেম: ২০১৭ সালের 'জাদুকর' মিউজিক ভিডিও থেকে তাদের প্রেম এবং ২০২২ সালের অক্টোবরে তারা বিয়ে করেন। দীর্ঘ ৪ বছর বৈবাহিক জীবন এবং মোট ১০ বছর একসাথে পথচলার পর, সম্প্রতি ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তারা পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে বিবাহবিচ্ছেদের যৌথ ঘোষণা দিয়ে ভক্তদের চমকে দেন।

নব্বই দশক থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ঘটে যাওয়া এই বিচ্ছেদগুলো আমাদের বিনোদন জগতের এক একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি টেনেছে, যা শোবিজ সংস্কৃতির ইতিহাসে দাগ কেটে গেছে।