৩৭ বছর পেরিয়ে গেলেও ব্যাট হাতে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম নির্ভরতার নাম স্টিভেন স্মিথ। বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজেও দলের সেরা ব্যাটার ছিলেন তিনি। তবে বয়স ও ব্যস্ত সূচির কথা মাথায় রেখে এবার নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছেন এই তারকা। এমনকি আগামী বছরের ইংল্যান্ডের মাটিতে অনুষ্ঠেয় অ্যাশেজে তাকে দেখা যাবে কি না, সেটিও নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না স্মিথ।
অস্ট্রেলিয়ার আগামী ১১ মাসের সূচিতে রয়েছে ২২টি টেস্ট। এর মধ্যে আগামী বছরের জুনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাশেজ সিরিজও রয়েছে। তবে সেই সময় পর্যন্ত টেস্ট খেলে যাবেন কি না, এখনো সিদ্ধান্ত নেননি স্মিথ। ‘টেলিগ্রাফ’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়ে অ্যাশেজ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘আমি সেখানে (আগামী অ্যাশেজে) থাকব কি না, তা নিয়ে নিজেই নিশ্চিত নই। এখন সিরিজ ধরে সিরিজ ধরে ভাবছি, আর বেশ কিছুদিন ধরে এভাবেই চলছে। ওই সময়টা এখনো আমার জন্য অনেক দূরে। ইংল্যান্ডে সিরিজ জেতার স্বাদ পেলে তা ভালোই লাগবে। তবে এটা সত্যি বাস্তবে হয় কি না, তা দেখার জন্য আপনাদের অপেক্ষা করতে হবে।’
টেস্ট ক্রিকেটে স্মিথ ইতোমধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসের অন্যতম সফল ব্যাটার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ১২৫ টেস্টে প্রায় ৫৪ গড়ে তার সংগ্রহ ৩৭টি সেঞ্চুরিসহ বিপুল রান। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অর্জন নিয়ে সন্তুষ্ট এই ব্যাটার। তবে টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও ক্রিকেট থেকে পুরোপুরি দূরে সরে যাওয়ার ইচ্ছা নেই তার। বরং টি-টোয়েন্টিসহ সংক্ষিপ্ত সংস্করণে আরও কিছুদিন খেলা চালিয়ে যেতে চান।
স্মিথের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বড় জায়গা করে নিয়েছে ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকও। ওই সময় তার বয়স ৩৯ বছরের বেশি হবে। তারপরও অস্ট্রেলিয়ার হয়ে অলিম্পিকে ক্রিকেট খেলার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। ক্রিকেটের টি-টোয়েন্টি সংস্করণে নিজেকে যতটা সম্ভব ধরে রাখার লক্ষ্যেই ইউরোপিয়ান লিগে খেলার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে তার কাছে।
স্মিথের ভাষায়, ‘এই মুহূর্তে অলিম্পিকই হয়তো একমাত্র জায়গা, আমি যার অংশ হতে চেষ্টা করতে চাই। ইউরোপিয়ান লিগে খেলার অন্যতম প্রধান কারণও যতটা সম্ভব টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়া।’
ক্রিকেট ছাড়ার পর কী করবেন, সে বিষয়েও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি স্মিথ। ব্যাটিংয়ের প্রতি তার ভালোবাসার কারণে ভবিষ্যতে কোচিংয়ে আসার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা থাকলেও নিজে এখনো সে বিষয়ে নিশ্চিত নন।
ক্যারিয়ারের শেষদিকে এসে ক্রিকেটের বাইরের জীবন সম্পর্কেও তার দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এসেছে। একটা সময় ক্রিকেট নিয়েই সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকলেও এখন খেলা না থাকলে নিয়মিত ক্রিকেট দেখেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।
তবে মাঠে থাকার আকাঙ্ক্ষা যে এখনো প্রবল, সেটি স্পষ্ট করেছেন স্মিথ। তিনি বলেন, ‘আমি এখনো ভাবি যে আরও কিছুদিন টি-টুয়েন্টি খেলে যেতে পারব। খেলা ছাড়ার পর আমার ভবিষ্যৎ কী? আমি নিশ্চিত নই, তবে আশা করছি, খেলোয়াড় হিসেবে আরও কিছুটা সময় বাকি আছে। খেলায় আমি অনেক কিছু অর্জন করেছি। গত ১৫ বছর বা তার কাছাকাছি সময়ের এই পথচলাটা দুর্দান্ত ছিল।’


