বিশ্বকাপ ফুটবলের হাইভোল্টেজ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত এই ফাইনালে ম্যাচের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবং ম্যাচটি পুনরায় আয়োজনের দাবি জানিয়ে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শুরু হয়েছে তীব্র আন্দোলন। ফিফার নিয়মবহির্ভূত এই দাবির পেছনের ঘটনা এবং বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন এক আলোচনার ঝড়।
অনলাইন পিটিশন প্ল্যাটফর্ম ‘চেঞ্জ ডট অর্গ’-এ গিজেলা সানচেজ নামের এক আর্জেন্টাইন সমর্থক ফাইনাল ম্যাচটি আবার খেলার দাবি জানিয়ে একটি আবেদনপত্র চালু করেন। এই প্রচারণায় খুব অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় ৬২ হাজার মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। ওই সমর্থকদের প্রধান অভিযোগ, ম্যাচ পরিচালনাকারী স্লোভেনিয়ান রেফারি স্লাভকো ভিনচিচের কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছিল। তবে কোনো সুনির্দিষ্ট বা ফিফা কর্তৃক স্বীকৃত প্রমাণ ছাড়াই এই অনিয়মের অভিযোগ এনে টুর্নামেন্টের ফলাফল পুনর্বিবেচনার জন্য ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে ক্রীড়া বিশ্লেষক ও ফুটবল আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অনলাইন পিটিশনের কোনো আইনগত বা প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি নেই। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, কোনো অফিসিয়াল টুর্নামেন্টের নির্ধারিত ফলাফল পরিবর্তন করা কিংবা কোনো ম্যাচ পুনরায় আয়োজনের কোনো সুযোগ নেই, যত দিন না পর্যন্ত নিয়মভঙ্গের সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রমাণ পাওয়া যায়। ফলে লাখ লাখ স্বাক্ষর জমা হলেও ফিফার অফিশিয়াল সিদ্ধান্তে এর কোনো প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
বিশ্লেষকদের এই ধারণার সত্যতা মেলে অতীতে ঘটে যাওয়া একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে। এর আগে এবারের বিশ্বকাপেরই সেমিফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে একটি ট্যাকল ও পেনাল্টি নিয়ে বিতর্কের জেরে ম্যাচটি পুনরায় খেলার দাবিতে ফ্রান্সে অনলাইন পিটিশন খোলা হয়েছিল। সেই আবেদনে ৮২ হাজারেরও বেশি সমর্থক স্বাক্ষর করলেও শেষ পর্যন্ত তা ম্যাচের ফলাফলে বিন্দুমাত্র প্রভাব ফেলতে পারেনি।
অন্যদিকে, ভক্ত-সমর্থকদের এমন আবেগী ও প্রতিবাদী কর্মকাণ্ডের বিপরীতে সম্পূর্ণ পেশাদার ও বাস্তবসম্মত মনোভাব দেখিয়েছেন স্বয়ং আর্জেন্টিনা দলের কোচ লিওনেল স্কালোনি। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে রেফারিং নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্কালোনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, রেফারির সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই অন্যায্য ছিল না। তিনি খোলাখুলি স্বীকার করেন যে, তারা হেরে গেছেন কারণ স্পেন তাদের চেয়ে অনেক ভালো ফুটবল খেলেছে এবং মাঠে স্পেনের জয়টাই ছিল ন্যায্য।
উল্লেখ্য, ফাইনাল ম্যাচে ফেরান তোরেসের করা একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ গোলে দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফি জয়ের স্বাদ পায় স্পেন। মাঠের লড়াইয়ে স্পেন চ্যাম্পিয়ন হলেও ভক্তদের এই অনলাইন পিটিশন এবং তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা বিতর্ক ফাইনাল পরবর্তী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।


