...|...|...

খেলা

বিশ্বকাপে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের কোনো প্রমাণ পায়নি ফিফা

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, দুপুর ২:৫৩ | আপডেট: ২৪ আগস্ট ২০২৬, সকাল ৭:৫৩
Shares
বিশ্বকাপে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের কোনো প্রমাণ পায়নি ফিফা

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপজুড়ে ম্যাচ ফিক্সিং ও বেটিং সংক্রান্ত নানা গুঞ্জন ও অভিযোগ উঠলেও সেগুলোর কোনো সত্যতা মেলেনি বলে জানিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। টুর্নামেন্টের ১০৪টি ম্যাচের বেটিং বাজার ও মাঠের সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে সংস্থাটি জানিয়েছে, কোনো ম্যাচেই সন্দেহজনক বেটিং কার্যক্রম কিংবা ম্যাচের ফল প্রভাবিত করার মতো কোনো কারসাজির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপের সার্বিক নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কাজ করেছে ফিফা ইন্টেগ্রিটি টাস্ক ফোর্স। প্রতিযোগিতা চলাকালে সংগৃহীত তথ্য, বেটিং বাজারের ওঠানামা এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর যৌথ বিশ্লেষণের ভিত্তিতেই এই চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

টুর্নামেন্ট চলাকালীন একাধিক ম্যাচের রেফারিং নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হারের পর মিশরের কোচ হোসাম হাসান লিওনেল মেসিকে সুবিধা দেওয়ার জন্য ফিফার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছিলেন।

তবে ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কলিনা সেই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন। এছাড়া ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে ফিফার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে লাইক দেওয়া নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছিল। তবে সব বিতর্ক ছাপিয়ে ফিফার তদন্তে ম্যাচ ফিক্সিং বা বেটিং সংক্রান্ত কোনো অনিয়মের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে বেটিং বাজার ও সম্ভাব্য অনিয়ম নজরদারির দায়িত্বে থাকা ফিফা ইন্টেগ্রিটি টাস্ক ফোর্সের সাথে যুক্ত ছিল এফবিআই, ইন্টারপোল, ইউএনওডিসি, কাউন্সিল অব ইউরোপ এবং আন্তর্জাতিক বেটিং ইন্টেগ্রিটি অ্যাসোসিয়েশনসহ (আইবিআইএ) বিভিন্ন বিশেষায়িত সংস্থা। ফিফার সিনিয়র ইন্টেগ্রিটি ম্যানেজার লিয়াম রিচ জানিয়েছেন, এই যৌথ কাঠামোর মাধ্যমে সম্ভাব্য ঝুঁকি সফলভাবে মোকাবিলা করা গেছে এবং আগামী বছরের নারী বিশ্বকাপেও একই পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে।

এদিকে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ থেকে ফিফা মুক্ত ঘোষণা করলেও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলকে ঘিরে দুটি পৃথক তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে। এর মধ্যে প্রথমটি হলো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে জয়ের পর আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের প্রদর্শিত ‘Las Malvinas son Argentinas’ (ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার) লেখা রাজনৈতিক বার্তা সংবলিত ব্যানার।

দ্বিতীয় তদন্তটি হচ্ছে স্পেনের বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর শারীরিক সংঘর্ষের ঘটনা। এই ঘটনায় আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেস, নাহুয়েল মোলিনা এবং সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালা জড়িত থাকার অভিযোগে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি শৃঙ্খলাবিধির ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তদন্ত চালাচ্ছে, যার ভিত্তিতে পরবর্তীতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।