...|...|...

খুলনা

স্কুল ফিডিংয়ে অনিয়ম ঠেকাতে কঠোর বার্তা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের

খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৪:৫৭ | আপডেট: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৩৩
Shares
স্কুল ফিডিংয়ে অনিয়ম ঠেকাতে কঠোর বার্তা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের

এক প্যাকেট খাবার কোনো দয়া নয়, কোনো অনুগ্রহও নয়। বিদ্যালয়ে পড়তে আসা প্রতিটি শিশুর জন্য পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা তার অধিকার। আর সেই অধিকার বাস্তবায়নে সামান্য অনিয়মও বরদাশত করা হবে না খুলনায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ফিডিং কর্মসূচি নিয়ে এমনই কঠোর বার্তা দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) খুলনার একটি স্থানীয় হোটেলে ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ প্রকল্পের আওতায় প্রধান শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, মিড ডে মিল কোনো অনুগ্রহ বা দয়া নয়, এটি প্রতিটি শিক্ষার্থীর অধিকার।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিশুদের শুধু বিদ্যালয়ে আনা নয়, তাদের সুস্থ রাখা, নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং শেখার সক্ষমতা বাড়ানোই স্কুল ফিডিং কর্মসূচির লক্ষ্য। প্রতিটি শিশুর পুষ্টি ও শিক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।

খাবারের মান নিয়ে কোনো ছাড় না দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো খাবার নিম্নমানের, পচা কিংবা অনুপযুক্ত মনে হলে তা গ্রহণ করা যাবে না। সরাসরি ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিয়ম কিংবা নিম্নমানের খাবার দেওয়ার অভিযোগ উঠলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে শিক্ষক, অভিভাবক এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বাড়ানো হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ‘কোনো শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে থাকবে না’ এবং ‘প্রতিটি শিশু সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত হবে’ এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পুষ্টিকর খাবার শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি শেখার সক্ষমতাও বাড়াচ্ছে।

প্রাথমিক শিক্ষায় সরকারের বিনিয়োগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, বিনিয়োগের উদ্দেশ্য শুধু বিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণ নয়; প্রতিটি শিশুকে বিদ্যালয়ে আনা, তার পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং মানসম্মত শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে দক্ষ ও শিক্ষিত প্রজন্ম তৈরি করা।

স্কুল পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি জানান, মাদারস কমিটিকেও আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। খাবারের মান, পরিমাণ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় অভিভাবকদের নজরদারি বাড়লে অনিয়ম কমার পাশাপাশি কর্মসূচির প্রতি মানুষের আস্থাও বাড়বে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) সিফাত মেহনাজ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. মতিয়ার রহমান, ফিডিং কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক মো. আবুল আমিন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (উপবৃত্তি) মো: মাসুদ হোসেন, খুলনার জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত এবং খুলনা বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষার বিভাগীয় উপপরিচালক ড. মো: শফিকুল ইসলাম।

স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম। অনুষ্ঠানে খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার ১৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা অংশ নেন।

সভায় মূলত একটি বার্তাই স্পষ্ট হয়ে ওঠে শিশুর হাতে পৌঁছানো খাবারকে ‘সরকারি সহায়তা’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি শিক্ষার্থীর প্রাপ্য অধিকার। আর সেই খাবার নিম্নমানের হলে তা গ্রহণ না করে প্রতিবাদ জানানোর দায়িত্বও বিদ্যালয় ও অভিভাবকদের।