...|...|...

সারাদেশ

শিবির সেক্রেটারি

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা না থাকায় উপনির্বাচনের অনিয়ম মিডিয়ায় আসেনি

জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১ নভেম্বর ২০২৬, বিকেল ৪:২৯
Shares
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা না থাকায় উপনির্বাচনের অনিয়ম মিডিয়ায় আসেনি

গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেন শিবির সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগা। ছবি: টাইমস টুডে

নির্বাচনে সরকারি দলের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করা হয়েছে। প্রচুর টাকার ছড়াছড়ি ছিল এবং অনেক মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে বেশি ভয় দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগা।

গণমাধ্যমের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, নির্বাচনের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে গণমাধ্যম অনেক ক্ষেত্রে ব্যর্থ হচ্ছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হলে সাংবাদিকেরা নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারবেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে জামালপুরের হিলফুল ফুজুল ট্রাস্ট মিলনায়তনে সাথী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, বাইরের লোকজনকে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে নেওয়া হয়েছে। ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী জাল ভোট দিতে গিয়ে ধরা পড়েছেন। এভাবে দিনব্যাপী বিভিন্ন অনিয়ম হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা করে সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, নির্বাচনে সরকারি দলের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করা হয়েছে। প্রচুর টাকার ছড়াছড়ি ছিল এবং অনেক মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে বেশি ভয় দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, বাইরের লোকজনকে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে নেওয়া হয়েছে। ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী জাল ভোট দিতে গিয়ে ধরা পড়েছেন। এভাবে দিনব্যাপী বিভিন্ন অনিয়ম হয়েছে।

গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের যে প্রকৃত চিত্র সারা দেশে তুলে ধরার কথা, গণমাধ্যম অনেক ক্ষেত্রে তা তুলে ধরতে পারছে না। আমরা দাবি জানাই, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দেওয়া হোক এবং গণমাধ্যম যাতে নিরপেক্ষভাবে ও সুন্দরভাবে কাজ করতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ছাত্রশিবিরের এই নেতা বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের নির্বাচন নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি পরীক্ষা। তারা চান, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতার পরিচয় দিক।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। সেখানে সরকারি আমলাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে যে মানের ও যোগ্যতার ব্যক্তিদের থাকার কথা, অনেক ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয়নি বলে তারা মনে করেন। তাই নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রয়োজনীয় সংস্কার চান তারা।

নির্বাচনী অনিয়মের বিষয়ে সিবগা বলেন, উপনির্বাচনসহ বিভিন্ন নির্বাচনে যেসব অনিয়ম ঘটেছে, সেগুলোর বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে কথা বলা হয়েছে। এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিতভাবেও অভিযোগ ও তথ্য জমা দেওয়া হয়েছে।

সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুবসমাজের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত সংস্কার দেখা যায়নি। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ক্ষেত্রেও কোনো সংস্কার দেখতে পাননি তারা। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের কথা থাকলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি। জুলাইয়ের শহীদদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরিবর্তনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।

তিনি বলেন, এসব কারণে বাংলাদেশ একটি সংকটের মধ্যে যাচ্ছে বলে তারা মনে করছেন। সরকারের উচিত, অবিলম্বে এসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেওয়া।