সংসারের অভাব ঘোচাতে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন ফেনীর আবুল হাসান ফরহাদ। স্বপ্ন ছিল, প্রবাসের আয়ে পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তায়। পরিবারের দাবি, প্রায় ছয় মাস ধরে সৌদি আরবের দাম্মামের একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন ফরহাদ। কী অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা রয়েছে কি না, কিছুই নিশ্চিতভাবে জানে না পরিবার। ছেলের ফেরার অপেক্ষায় উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে মা ফেরদৌস আক্তারের।
ফরহাদ ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার আমজাদহাট ইউনিয়নের উত্তর তারাকুচা গ্রামের বুলবুল আহমেদের ছেলে। দুই ভাই-বোনের মধ্যে বড় তিনি। স্থানীয় আমজাদহাট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাসের পর জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবে যান। প্রবাসে থাকা খালু নূর নবীর সহযোগিতায় দাম্মামের একটি সুপার শপে কাজ শুরু করেন তিনি। সেখানে প্রায় চার বছর ধরে কর্মরত ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে দাম্মামের একটি মহল্লা থেকে ফরহাদকে আটক করা হয়। এরপর দীর্ঘদিন তার সাথে যোগাযোগ করতে পারেননি স্বজনেরা। প্রায় এক মাস আগে বাড়িতে ফোন করে কারাগারে বন্দি থাকার কথা জানান তিনি। তবে আটকের কারণ, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ কিংবা আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি। ফলে ফরহাদ ঠিক কী পরিস্থিতিতে রয়েছেন, তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়েছে কি না কিংবা কবে মুক্তি মিলতে পারে, এসব প্রশ্নের উত্তর জানা নেই পরিবারের।
ফরহাদের বাবা বুলবুল আহমেদ জীবিকার প্রয়োজনে গত ২০ বছর ধরে পাকিস্তানের করাচিতে রয়েছেন। ছেলের বন্দি থাকার খবর তাকেও দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে ফরহাদের মুক্তির বিষয়ে আবেদন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ফরহাদের মা ফেরদৌস আক্তার বলেন, ছেলেটা পরিবারের অভাব দূর করতে বিদেশে গিয়েছিল। এখন সে কারাগারে, অথচ কী কারণে আটক হয়েছে, তা-ও জানি না। ছেলের চিন্তায় দিন কাটে। আমি চাই, সরকার উদ্যোগ নিয়ে তাকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করুক।
ফরহাদের বন্দিদশার ঘটনা প্রবাসে থাকা বাংলাদেশিদের আইনি সুরক্ষা ও কনস্যুলার সহায়তার বিষয়টিও সামনে এনেছে। ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য মানুষ জীবিকার তাগিদে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করছেন। তাদের পাঠানো অর্থে চলে পরিবারের সংসার। কিন্তু বিদেশে কেউ আটক হলে তার অবস্থান, আটকের কারণ ও আইনি পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া অনেক পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
ফেনীর বাসিন্দা ফয়সাল বলেন, প্রবাসে কেউ বিপদে পড়লে তার পরিবারের পক্ষে একা সবকিছু সামলানো সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট দূতাবাস ও সরকারি দপ্তরের সমন্বয়ে দ্রুত খোঁজখবর নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা দরকার।
ফুলগাজীর প্রবাসী আলাউদ্দিনের ছেলে শুভ বলেন, বিদেশে যাওয়ার আগে কর্মীদের সংশ্লিষ্ট দেশের আইনকানুন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে সচেতন করা জরুরি। পাশাপাশি কেউ আটক হলে তার অবস্থান, অভিযোগ ও আইনি সহায়তার বিষয়ে পরিবারকে দ্রুত তথ্য দেওয়ার ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
ফরহাদের আটকের কারণ ও বর্তমান আইনি অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চায় তার পরিবার। দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ও কূটনৈতিক সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ফরহাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা স্বজনদের।


