জাতিসংঘ সফরকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে আলাদা কোনো বৈঠকের তেমন সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। পরবর্তীতে দুপক্ষের সুবিধাজনক সময় অনুযায়ী বৈঠকের আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, এই সফরে ইউএনের অধিবেশনে যুক্ত হওয়ার জন্যই প্রধানমন্ত্রী এসেছেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটা বাইল্যাটারাল ভিজিট নয়, মাল্টিল্যাটারাল ভিজিট। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে (ইউএন জেনারেল অ্যাসেম্বলি) অংশ নেওয়া। বাইল্যাটারাল ভিজিটের সুযোগ যখন হবে, তখন অন্যভাবে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়গুলো এগিয়ে নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে আপনারা জানেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছেন এবং বৈঠকের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে সেটি হবে একটি বাইল্যাটারাল বৈঠক।
তিনি আরও বলেন, ওই বিষয়টি আমরা পরবর্তী সময়ে বাইল্যাটারাল ভিজিটের মাধ্যমে, উপযুক্ত সময়ে এবং দুই পক্ষের সুবিধা অনুযায়ী বিবেচনা করব। তবে এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে জাতিসংঘ। তাই জাতিসংঘের কার্যক্রমের বাইরে অন্য কোনো বিষয়ে বাইল্যাটারাল আলাপ-আলোচনার তেমন সুযোগ এখানে পাওয়া যাবে না।
এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতির পর তুর্কি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনি নিউইয়র্কে যান। তার সাথে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গীরা।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান ও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম। পরে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে তাকে নিউইয়র্কের হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক হোটেলে নেওয়া হয়। সফরকালে সেখানেই অবস্থান করবেন তিনি।
মঙ্গলবার থেকে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। সকালে জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্য দেওয়া স্বাগত প্রাতঃরাশে অংশ নেবেন তিনি। এরপর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের সহধর্মিণীদের সম্মানে দেওয়া অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে বিভিন্ন বিশ্বনেতার সাথে দ্বিপক্ষীয় ও পার্শ্ববৈঠকের আয়োজন হতে পারে এবং এসব বৈঠকের সময়সূচি শেষ মুহূর্তে চূড়ান্ত করা হয়।


