দশমী মানেই দেবীবরণের আবেগ, মিষ্টিমুখ আর লাল সিঁদুরে রাঙা একরাশ আনন্দ। দেবীর বিসর্জনের আগে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠার এই মুহূর্ত বাঙালির দুর্গাপুজোর অন্যতম আকর্ষণ। একে অপরের কপালে সিঁদুর পরিয়ে দেওয়া, মিষ্টিমুখ আর ছবি তোলার আনন্দে কখন যে সময় কেটে যায়, তা টেরই পাওয়া যায় না।
তবে উৎসবের এই আনন্দের মাঝেই ত্বকের যত্নের বিষয়টি ভুলে গেলে চলবে না। কারণ বাজারচলতি কিছু সিঁদুরে থাকা রং ও অন্যান্য উপাদান সংবেদনশীল ত্বকে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।
তাই বলে সিঁদুর খেলার আনন্দে ভাটা পড়বে কেন? বরং সামান্য সচেতনতা আর সঠিক পরিচর্যায় ত্বকের অস্বস্তির ঝুঁকি কমানো সম্ভব। সিঁদুর খেলার আগে ও পরে কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চললেই ত্বকের যত্ন নেওয়া সহজ হবে।
সিঁদুর খেলার আগে ত্বকের যত্ন নেবেন যেভাবে
ত্বকে ময়েশ্চারাইজারের ব্যবহার
সিঁদুর খেলতে যাওয়ার আগে মুখ ও গলায় নিজের ত্বকের উপযোগী ময়েশ্চারাইজ়ার লাগিয়ে নিন। এতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকবে এবং শুষ্কতা কমতে পারে। তাই সিঁদুরের ক্ষতিকর উপাদান থেকে ত্বক সুরক্ষিত রাখতে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন।
সিঁথিতে লাগাতে পারেন সামান্য তেল
চুলের সিঁথিতে অল্প নারিকেল তেল লাগালে সেখানে লেগে থাকা সিঁদুর পরিষ্কার করা কিছুটা সহজ হতে পারে। তবে যাদের নারিকেল তেলে অ্যালার্জি বা ব্রণ হওয়ার প্রবণতা রয়েছে, তাদের এটি এড়িয়ে চলাই ভালো। মুখে নতুন কোনো তেল ব্যবহার না করাই নিরাপদ।
নতুন প্রসাধনী ব্যবহার না করা
সিঁদুর খেলার দিন ত্বকে নতুন ফেসপ্যাক, স্ক্রাব বা অপরিচিত প্রসাধনী ব্যবহার না করাই ভালো। বিশেষ করে লেবুর রস, অতিরিক্ত সুগন্ধিযুক্ত প্রসাধনী কিংবা ত্বকে জ্বালা তৈরি করতে পারে এমন উপাদান এড়িয়ে চলুন। এতে অপ্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি কমানো যায়।
সানস্ক্রিন ব্যবহার করা
দশমীর দিনে বাইরে বেরোলে ত্বকের জন্য উপযোগী ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। সিঁদুর খেলা হবে বলেই সানস্ক্রিন বাদ দেবেন না। চাইলে হালকা মেকআপ করতে পারেন। তবে অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহার না করাই ভালো, বিশেষ করে ত্বক সংবেদনশীল হলে।
সিঁদুর বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন
সিঁদুরের উপাদান ও গুণমান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করুন। অজানা উৎসের, উপাদানবিহীন বা অতিরিক্ত কড়া গন্ধযুক্ত সিঁদুর এড়িয়ে চলুন। চোখের আশপাশে, ঠোঁটে কিংবা কাটা-ছেঁড়া ত্বকে সিঁদুর লাগাবেন না। আগে থেকেই ত্বকে অ্যালার্জি বা র্যাশ থাকলে বিশেষ সতর্ক থাকুন।
সিঁদুর খেলার পরে ত্বকের যত্ন নিতে যা যা করবেন
যত দ্রুত সম্ভব সিঁদুর তুলে ফেলুন
বাড়ি ফিরে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ত্বক থেকে সিঁদুর পরিষ্কার করে নিন। মেকআপ রিমুভার ব্যবহার করলে সেটি যেন আপনার ত্বকের উপযোগী হয়। এরপর আলতো হাতে পরিষ্কার করুন। সিঁদুর তোলার জন্য জোরে ঘষাঘষি বা বারবার স্ক্রাব করবেন না। এতে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
মাইল্ড ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন
সিঁদুর পরিষ্কারের পর মুখ ঠান্ডা বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। প্রয়োজনে মৃদু ক্লিনজার ব্যবহার করুন। অতিরিক্ত ক্ষারযুক্ত সাবান কিংবা ত্বক শুষ্ক করে দেয় এমন পরিষ্কারক ব্যবহার না করাই ভালো।
ময়েশ্চারাইজার লাগাতে ভুলবেন না
মুখ ধোয়ার পর ত্বক আলতো করে শুকিয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। এতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে। চাইলে আগে থেকে ব্যবহার করে অভ্যস্ত, সুগন্ধিবিহীন ও ত্বকের উপযোগী শীতলতাদায়ক পণ্য ব্যবহার করতে পারেন। নতুন শিট মাস্ক ব্যবহার করতেই হবে, এমন নয়, কোনো কোনো মাস্কের উপাদান উল্টা ত্বকে অস্বস্তি বাড়াতে পারে।
জ্বালা বা চুলকানি হলে যা করবেন
সিঁদুর খেলার পরে ত্বক লাল হয়ে গেলে, চুলকানি বা জ্বালাভাব দেখা দিলে আক্রান্ত স্থান পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ঠান্ডা পানিতে ভেজানো পরিষ্কার কাপড় কিছুক্ষণ আলতো করে ধরে রাখতে পারেন।
সুগন্ধিযুক্ত ক্রিম বা ঘরোয়া কোনো উপাদান লাগাবেন না। সমস্যা বাড়লে, ফোসকা পড়লে কিংবা উপসর্গ না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। চোখ ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট বা ঠোঁট-জিহ্বা ফুলে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।
দশমীর সিঁদুর খেলা আনন্দ, আবেগ আর ঐতিহ্যের মেলবন্ধন। তাই উৎসবের রঙে নিজেকে রাঙিয়ে তুলুন, তবে ত্বকের অস্বস্তিকে অবহেলা করবেন না। সিঁদুর বেছে নেওয়া থেকে শুরু করে তা পরিষ্কার করা পর্যন্ত একটু সচেতন থাকলেই উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি ত্বকের যত্নও বজায় রাখা সম্ভব।


