...|...|...

আইন ও আদালত

সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার স্বাক্ষর জাল, কারাগারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১১:২২
Shares
সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার স্বাক্ষর জাল, কারাগারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার

ছবি: সংগৃহীত

সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার স্বাক্ষর নকল করে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে করা মামলায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাময়িক বহিষ্কৃত) শাহাবুদ্দীন আহমদকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন শাহাবুদ্দীন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার অভিযোগ ও তদন্তসংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের পর কক্সবাজারের শাহপরীর দ্বীপ করিডোর দিয়ে মিয়ানমার থেকে গরু আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এ কার্যক্রম আবার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলে কক্সবাজারের ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন রবিন সরকারি অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা করেন।

এ সময় তিনি পরিচিত খোরশেদ আলমের সাথে যোগাযোগ করেন। খোরশেদ একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা। একই সাথে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক ও যুগ্ম সচিব মফিদুল আলমের ভাই। সরকারি উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ রয়েছে দাবি করে খোরশেদ আলম ব্যবসায়ীকে গরু আমদানির অনুমোদন পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এরপর আলাউদ্দিনকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে বলা হয়। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সুপারিশ ও স্বাক্ষরযুক্ত একটি মঞ্জুরিপত্র তৈরি করা হয়, যাতে ৫ লাখ গবাদিপশু আমদানির অনুমতির কথা উল্লেখ ছিল।

তবে পরে ঢাকায় এসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে আলাউদ্দিন জানতে পারেন, এ ধরনের কোনো আবেদনই মন্ত্রণালয়ে জমা পড়েনি।

ঘটনার পর রাজধানীর পল্লবী থানায় মামলা করে ডিবি পুলিশ। তদন্ত শেষে পাঁচজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। তদন্তে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালানোর তথ্য উঠে আসে।

সিআইডির তদন্তে এ চক্রের সাথে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাময়িক বহিষ্কৃত) শাহাবুদ্দীন আহমদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায় বলে মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক আবুল কালাম প্রতিবেদনে জানান, ২০২৫ সালের ২ মার্চ ‘কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত ২২ নম্বর বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন নিয়ন্ত্রণাধীন যাত্রাপুর বিওপির বিট খাটালটি ১৪৩১ বঙ্গাব্দের জন্য নবায়ন/পরিচালনার অনুমতি প্রদান’ সংক্রান্ত একটি আবেদন শাহাবুদ্দীনের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে জাফর ইকবাল ওরফে রাঙ্গার কাছে পাঠানো হয়।

পরে জাফর ইকবাল আবেদনটির কপি জাবেদ ও খোরশেদ আলমের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান। ওই নথির আদলে আরেকটি আবেদন তৈরির জন্য ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন রবিনকে বলা হয়। এরপর ৩ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর উদ্দেশ্যে তিনি আবেদনটির স্ক্যান কপি তৈরি করে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে খোরশেদ আলমকে পাঠান।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শাহাবুদ্দীন ও জাফর ইকবালের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তার বদলি সংক্রান্ত সুপারিশ নিয়েও কথোপকথনের তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া আলাউদ্দিন রবিনের করা শাহপরীর দ্বীপ এলাকায় বিট বা খাটাল স্থাপন এবং ৫ লাখ গবাদিপশু আমদানির অনুমতি চেয়ে করা আবেদনের একটি কপিও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উঠে এসেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ওই আবেদনের কপিতে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সুপারিশ ও স্বাক্ষর সংযুক্ত করে শাহাবুদ্দীনের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে জাফর ইকবালের নম্বরে পাঠানো হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

মামলায় এসব নথি, হোয়াটসঅ্যাপ যোগাযোগ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের পর শাহাবুদ্দীন আহমদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলেও তা নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।