...|...|...

জাতীয়

রাতে পুলিশ এলে প্রথম ৫ মিনিটে যা যা করবেন

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:০৪ | আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:০৭
Shares
রাতে পুলিশ এলে প্রথম ৫ মিনিটে যা যা করবেন

ছবি: এআই

মাঝরাতে হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ। দরজা খুলতেই দেখলেন, একদল পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বলা হলো, ‘আপনাকে আমাদের সঙ্গে থানায় যেতে হবে।’

এমন আকস্মিক পরিস্থিতিতে যে কেউ ঘাবড়ে যেতে পারেন এবং ভয়ে ভুল পদক্ষেপ নিয়ে বসতে পারেন। কিন্তু ভয় না পেয়ে প্রথম ৫ মিনিটে কয়েকটি শান্ত ও সচেতন পদক্ষেপ নিলে পরিস্থিতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায় এবং নিজের আইনগত অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব।

আইন কী বলে?

সংবিধান- অনুচ্ছেদ ৩৩

পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করলে তাকে দ্রুত গ্রেফতারের কারণ জানাতে হবে। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি নিজের পছন্দের আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করার অধিকার রাখেন। থানায় নেওয়ার পর যাতায়াতের সময় বাদ দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হবে।

ফৌজদারি কার্যবিধি- ধারা ৫৪ ও ৫৪ক

পরোয়ানা ছাড়া যেকোনো সময় কাউকে গ্রেফতার করা যায় না; আইনে নির্ধারিত কারণ ও প্রয়োজন থাকতে হবে। গ্রেফতারের কারণ লিখিতভাবে নথিভুক্ত করা এবং গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিকে সেই কারণ জানানো প্রয়োজন।

ফৌজদারি কার্যবিধি- ধারা ৪৬ক

গ্রেফতারকারী পুলিশ সদস্যকে নিজের পরিচয় দিতে হয়। গ্রেফতারের সময় ও কারণ নথিভুক্ত করা, পরিবারের কাউকে খবর দেওয়া এবং গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিকে কোথায় রাখা হয়েছে- এসব তথ্য নথিতে রাখার বিধান রয়েছে। শরীরে আঘাত থাকলে চিকিৎসার ব্যবস্থাও চাইতে পারেন।

ফৌজদারি কার্যবিধি- ধারা ৬১

ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ছাড়া পুলিশ কোনো ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার বেশি থানায় আটক রাখতে পারে না। গ্রেফতারের স্থান থেকে আদালতে পৌঁছাতে যতটুকু সময় লাগে, শুধু সেই সময়টুকু আলাদাভাবে গণনা করা হয়।

প্রথমেই আপনার করণীয় (Action Steps)

পরিচয় দেখে নিন

দরজা খোলার আগে নাম, পদবি, থানা বা ইউনিট এবং পরিচয়পত্র সম্পর্কে জানতে চান। পুলিশ সদস্যরা সাদা পোশাকে থাকলে, সম্ভব হলে সংশ্লিষ্ট থানায় বা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পরিচয় যাচাই করার চেষ্টা করুন।

কেন নেওয়া হচ্ছে, জিজ্ঞেস করুন

শান্তভাবে জিজ্ঞেস করুন: ‘আমি কি গ্রেফতার? কোন মামলা বা অভিযোগে? কোথায় নিয়ে যাবেন?’

মামলা নম্বর, থানার নাম এবং দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার নাম লিখে রাখুন। পরোয়ানা থাকলে তা দেখতে চান।

দ্রুত খবর দিন

পরিবারের বিশ্বস্ত একজন ব্যক্তি এবং আইনজীবীকে ফোন বা বার্তা দিন। সময়, পুলিশের গাড়ির নম্বর এবং কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে- যতটুকু সম্ভব জানিয়ে রাখুন।

কাগজ পড়ে তারপর সই করুন

গ্রেফতার-সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং জব্দ করা জিনিসের তালিকা ভালোভাবে পড়ে নিন। ফোন, টাকা বা অন্য কোনো জিনিস নেওয়া হলে তার সঠিক তালিকা এবং একটি কপি চান। খালি কাগজে কখনো সই করবেন না।

বাধা নয়, নিজের অধিকার জানান

ধস্তাধস্তি বা পালানোর চেষ্টা করবেন না। অসুস্থতা, নিয়মিত ওষুধ সেবন বা শরীরে আঘাত থাকলে সঙ্গে সঙ্গে জানান। আদালতে নেওয়া হলে কোনো নির্যাতন বা অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঘটনা ঘটলে তা সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেটকে জানান।

যে ভুলগুলো কখনোই করবেন না

  • ফোন বা প্রমাণ মুছে ফেলবেন না
  • চ্যাট মুছবেন না, ফোন ভাঙবেন না এবং পালানোর চেষ্টা করবেন না। এতে নতুন সন্দেহ বা অভিযোগের সৃষ্টি হতে পারে।
  • পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করবেন না
  • শারীরিক বাধা দিলে নিজের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারেন এবং আলাদা মামলার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
  • না পড়ে সই করবেন না
  • সময়, কারণ বা জব্দ করা জিনিসের তালিকায় ভুল থাকলে আগে তা সংশোধন করতে বলুন। খালি বা অসম্পূর্ণ কাগজে সই করবেন না।
  • টাকা দিয়ে ছাড় পাওয়ার চেষ্টা করবেন না।
  • দালাল বা ঘুষের পথে যাবেন না। সরকারি রসিদ ছাড়া কোনো টাকা দেবেন না।

প্রতিকার ও অভিযোগের জায়গা

  • অবৈধভাবে আটক রাখা, পরিচয় গোপন করা, মারধর করা বা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির না করার শঙ্কা থাকলে পরিবার দ্রুত একজন আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে।
  • সংশ্লিষ্ট থানার ওসি, জেলা পুলিশ সুপার অথবা মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করা যায়।
  • তাৎক্ষণিক বিপদে ৯৯৯ এবং সরকারি আইনি সহায়তার জন্য ১৬৬৯৯ নম্বরে কল করুন।
  • আদালতে হাজির করা হলে চিকিৎসা, আইনজীবীর সঙ্গে দেখা এবং পুলিশি রিমান্ডের বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্রয়োজনীয় আবেদন করা যায়।