সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবায় কোনো ধরনের অবহেলা, রোগীর খাবারে অনিয়ম কিংবা দায়িত্ব পালনে গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী।
শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্য সচিব বলেন, একজন রোগী হাসপাতালে আসেন সুস্থ হওয়ার আশা ও শেষ ভরসা নিয়ে। সেই ভরসার জায়গায় অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা বা অবহেলার কোনো সুযোগ নেই। প্রতিটি রোগীকে মর্যাদা, সহমর্মিতা ও মানসম্পন্ন সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
পরিদর্শনের সময় তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, রোগীসেবা কার্যক্রম ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখেন। পাশাপাশি চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলে সেবার মান ও তাদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
পরে চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় স্বাস্থ্য সচিব বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার উপজেলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে পর্যায়ক্রমে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিভিন্ন হাসপাতালের সক্ষমতা ও প্রয়োজনীয়তা যাচাইয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ, জনবল বৃদ্ধি এবং সেবার মানোন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। তবে এসব উদ্যোগের প্রকৃত সফলতা তখনই আসবে, যখন সরকারি হাসপাতালগুলো মানুষের বিশ্বাস ও আস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে।
কামরুজ্জামান চৌধুরী আরও বলেন, চিকিৎসাসেবা শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, এটি একটি মানবিক দায়বদ্ধতা। রোগীর মুখে সন্তুষ্টির হাসিই স্বাস্থ্যসেবার প্রকৃত সাফল্য।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জয়পুরহাটের সিভিল সার্জন ডা. মো. আল মামুন, জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রাশেদ মোবারক জুয়েল, কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরা, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম, আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. ফাহমিদা আক্তার লিনা, ডা. নাহিদ নাজনীন ডেইজী, ডা. আহসান হাবীবসহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।


