...|...|...

সারাদেশ

টাইমস টুডেতে সংবাদ প্রকাশ, নড়েচড়ে বসল কয়রা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ

মেহেদী হাসান, খুলনা
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৪:৫৪
Shares
টাইমস টুডেতে সংবাদ প্রকাশ, নড়েচড়ে বসল কয়রা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, খুলনা। ছবি: টাইমস টুডে

খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে গিয়ে আড়াই মাস বয়সী শিশু মুয়াজের মৃত্যুর ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (এসএসিএমও) আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ব্যবস্থা নিতে সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট দফতরে লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। টাইমস টুডেতে শিশুটির মৃত্যু নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনিক পর্যায়ে গড়িয়েছে।

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত চিঠিতে আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। গত ২৪ অক্টোবর খুলনার সিভিল সার্জনের কাছে পাঠানো চিঠির অনুলিপি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদফতর, খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় এবং কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হয়।

এর আগে টাইমস টুডেতে ‘হাসপাতালে গিয়েও মিলল না চিকিৎসক, অতঃপর মৃত্যু’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, গত ২২ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ৮টা ১৫ মিনিটে জ্বর ও খিঁচুনি নিয়ে শিশু মুয়াজকে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সে সময় দায়িত্বে ছিলেন এসএসিএমও আব্দুল্লাহ আল মামুন। অভিযোগ অনুযায়ী, শিশুটির অবস্থা গুরুতর হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। এমনকি তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে অবহিত করা হয়নি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, প্রায় ৩০ মিনিট পর শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে তাকে আবার জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসক ডা. তামান্না খাতুন শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রেজাউল করিম টাইমস টুডেকে বলেন, শিশু মুয়াজের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত করে এসএসিএমও আব্দুল্লাহ আল মামুনের দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ কারণে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট দফতরে অভিযোগ পাঠানো হয়েছে।

তবে শিশুটির পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার দায় নির্ধারণে শুধু একজন কর্মীর ভূমিকা তদন্ত করলেই চলবে না। শিডিউল অনুযায়ী ওই সময়ে জরুরি বিভাগে যেসব চিকিৎসকের দায়িত্ব পালনের কথা ছিল, তাদের দায়িত্ব পালন এবং রোগীকে যথাসময়ে চিকিৎসা দেওয়ার প্রক্রিয়াও খতিয়ে দেখতে হবে।

এদিকে, অভিযুক্ত এসএসিএমও আব্দুল্লাহ আল মামুনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

শিশু মুয়াজের মৃত্যুর ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগের পাশাপাশি জরুরি বিভাগের দায়িত্ব বণ্টন ও চিকিৎসাসেবার কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে ঘটনার প্রকৃত চিত্র কী উঠে আসে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটিই দেখার বিষয়।