সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামোর সারসংক্ষেপ আজ সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে। প্রস্তাবিত নতুন কাঠামোতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেল ৫টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
অর্থ বিভাগ ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাবটি অর্থ বিভাগ সরাসরি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করতে পারে। যে কারণে এসংক্রান্ত সারসংক্ষেপ আগেভাগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়নি। তবে গত দুই দিন ধরে গভীর রাত পর্যন্ত প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করতে কাজ করেছেন অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা।
প্রায় ১৯ পৃষ্ঠার এই সারসংক্ষেপ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেলে তা ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। ভেটিং শেষে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামোটি দুই ধাপে কার্যকর করার সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম বছরে শুধু মূল বেতন এবং পরের বছর বাড়ি ভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা সমন্বয় করার কথা বলা হয়েছে। মন্ত্রিসভা চাইলে এই প্রস্তাবে পরিবর্তনও আনতে পারবে।
এর আগে জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫-এর সুপারিশ পর্যালোচনার জন্য গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠিত হয়। প্রায় চার মাস পর্যালোচনার পর কমিটি গত ১২ আগস্ট চূড়ান্ত সুপারিশ প্রতিবেদন তৈরি করে।
এছাড়া গত ৬ আগস্ট বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ২০২৫-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনার জন্য অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি মন্ত্রী পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। সচিব ও মন্ত্রী পর্যায়ের কমিটির সুপারিশ এক করার পর একটি বৈঠকের মাধ্যমে নতুন বেতন কাঠামোর এই খসড়া চূড়ান্ত করা হয়।
উল্লেখ্য, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বশেষ অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর প্রতিবছর মূল বেতন ৫ শতাংশ হারে বাড়লেও নতুন কোনো পে-স্কেল ঘোষণা হয়নি। নবম জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই গঠিত হয়েছিল এবং কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। তবে পরবর্তীতে সচিব ও মন্ত্রী পর্যায়ের কমিটির পর্যালোচনা শেষে গ্রেডভেদে বৃদ্ধির হার কিছুটা কমিয়ে নতুন এই খসড়া তৈরি করা হয়েছে।
সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে গত ১৭ আগস্ট প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকেও নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। সেখানে জানানো হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা এবং পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এখন মন্ত্রিসভার অনুমোদন ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত রূপ লাভ করবে।



