...|...|...

শিক্ষা

সব স্কুল-কলেজে মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধ কমিটি গঠনের নির্দেশ

টাইমস টুুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৮ নভেম্বর ২০২৬, বিকেল ৫:১১
Shares
সব স্কুল-কলেজে মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধ কমিটি গঠনের নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

দেশের সব মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে ‘মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধ কমিটি’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)। শিক্ষক, অভিভাবক, স্থানীয় কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এ কমিটি গঠন করতে হবে। আগামী তিন দিনের মধ্যে কমিটি গঠনের কাজ শেষ করে অধিদফতরে প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে।

রবিবার (৮ নভেম্বর) মাউশির সাধারণ প্রশাসন শাখার সহকারী পরিচালক মো. রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) উদ্যোগে জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের সব মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, কমিটি গঠনের বিষয়টি আগামী তিন দিনের মধ্যে নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্টদের অধিদফতরের নির্ধারিত ইমেইল ঠিকানা [email protected]এ প্রতিবেদন পাঠাতে হবে।

এদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে দেশব্যাপী চিত্রকর্ম প্রদর্শনীর আয়োজনের অনুমতি দিয়েছে মাউশি। ‘আর্ট বাংলাদেশ’ ব্যানারে ট্যালেন্ট স্পোর্টস লিমিটেড এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে।

এ উদ্যোগের আওতায় শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে আর্ট পেপার দেওয়া হবে। তাদের আঁকা ছবি মূল্যায়নের পর নির্বাচিতদের নিয়ে প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণের আয়োজন করা হবে।

মাউশির উপপরিচালক (শারীরিক শিক্ষা) অধ্যাপক মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অধিদফতরের পরিচালক, উপপরিচালক (মাধ্যমিক) ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অধিদফতরের চিঠি অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের পাশাপাশি চিত্রাঙ্কনের প্রতি আগ্রহ তৈরি এবং তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ করে দেওয়াই এ আয়োজনের লক্ষ্য।

আয়োজনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে আর্ট পেপার সরবরাহ করা হবে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দমতো যেকোনো বিষয়ে ছবি আঁকতে পারবে। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো বিষয় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি।

শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে অথবা বাড়িতে বসে ছবি আঁকতে পারবে। পরে চিত্রকর্ম নির্ধারিত শিক্ষকের কাছে জমা দিতে হবে। আর্ট পেপারের চাহিদাপত্র ও কার্যক্রম পরিচালনার নিয়মাবলি মাউশির অনুমোদনপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে।

জমা দেওয়া ছবিগুলো প্রথমে মূল্যায়ন করা হবে। মূল্যায়নে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে জানানো হবে।

সব শিক্ষার্থী সরাসরি প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে না। যারা মূল্যায়নে উত্তীর্ণ হয়ে এসএমএস পাবে, তারাই নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রদর্শনীতে অংশ নিতে নিবন্ধন করতে পারবে।

নিবন্ধন সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের চিত্রকর্ম প্রদর্শনীর জন্য বিবেচনা করা হবে। নির্বাচিতরা ক্রেস্ট ও সনদ পাওয়ার সুযোগ পাবে।

দেশের প্রতিটি জেলায় এ আয়োজনের আওতায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ শুধু ছবি আঁকা ও জমা দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; জেলা পর্যায়েও তাদের স্বীকৃতি ও পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত চিত্রকর্ম নিয়ে মূল প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে। সেগুনবাগিচার জাতীয় চিত্রশালা ভবনের গ্যালারিগুলোতে এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।

প্রদর্শনীর তারিখ ও সময় পরবর্তী সময়ে এসএমএসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের জানানো হবে।

আয়োজনের আওতায় দেশের বিভিন্ন জেলার অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে ১০০ জন শিক্ষার্থীকে শতভাগ স্কলারশিপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের চিত্রকর্ম পাঁচটি দেশে আয়োজিত আন্তর্জাতিক আর্ট এক্সিবিশনে প্রদর্শনের সুযোগ দেওয়া হবে।

এর মাধ্যমে দেশের শিক্ষার্থীদের শিল্পকর্ম আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে। তবে এই ১০০ শিক্ষার্থী নির্বাচনের বিস্তারিত প্রক্রিয়া সম্পর্কে মাউশির চিঠিতে সুনির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।

আয়োজনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে নিয়মিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনাও রয়েছে। এ অনুযায়ী, জেলাভিত্তিক কার্যক্রম ও অগ্রগতির প্রতিবেদন প্রতি তিন মাস অন্তর ‘আর্ট বাংলাদেশ’- এর পরিচালককে মাউশির শারীরিক শিক্ষা বিভাগে জমা দিতে হবে।