...|...|...

বিশ্ব

শুক্রবার মোদি-পুতিন বৈঠক, আলোচনায় থাকবে যেসব বিষয়

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮:৩০
Shares
শুক্রবার মোদি-পুতিন বৈঠক, আলোচনায় থাকবে যেসব বিষয়

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে আগামী শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বৈঠকে বসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার করার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সাশ্রয়ী মূল্যে রুশ তেল আমদানি অব্যাহত রাখা, পরমাণু শক্তি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এবং ইউক্রেন যুদ্ধের মতো জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনার টেবিলে থাকতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।

আসন্ন এই বৈঠকে সবচেয়ে বেশি আলো থাকবে সামরিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ওপর। মস্কো ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে যে, নয়াদিল্লিকে অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তি সরবরাহ করতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এর মধ্যে রাশিয়ার অত্যন্ত সুরক্ষিত পঞ্চম প্রজন্মের ‘এসইউ-৫৭’ যুদ্ধবিমান হস্তান্তরের বিষয়টি নিয়ে বিশেষভাবে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীতে বহু দশক ধরে রুশ যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও বিভিন্ন সমরাস্ত্রের ব্যবহার হয়ে আসছে। ফলে এই বৈঠকে এসইউ-৫৭ নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট সমঝোতা হলে তা দুই দেশের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সম্পর্কে একটি নতুন এবং বড় অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

প্রতিরক্ষার পাশাপাশি পরমাণু শক্তির প্রসারও এই আলোচনার অন্যতম মূল এজেন্ডা হতে পারে। ভারতে নতুন পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন এবং উন্নত প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানে জোরালো আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে মস্কো। এছাড়া সামরিক সরঞ্জাম আমদানির পাশাপাশি দেশ দুটিতে যৌথ উদ্যোগে অস্ত্র উৎপাদনের পরিধি আরও বাড়ানোর বিষয়েও দুই নেতা মতবিনিময় করতে পারেন।

মোদি-পুতিন বৈঠকের আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি ও এর অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া। পশ্চিমা দেশগুলোর ব্যাপক চাপ এবং নানা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সাশ্রয়ী মূল্যে রাশিয়া থেকে নিয়মিত অপরিশোধিত তেল কিনে চলেছে ভারত, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে বড় ভূমিকা রাখছে।

পরিসংখ্যান বলছে, গত জুলাই মাসে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানির পরিমাণ রেকর্ড গড়ে দৈনিক প্রায় ২৮ লাখ ২০ হাজার ব্যারেলে গিয়ে ঠেকেছিল, যা ছিল ভারতের মোট তেল আমদানির প্রায় ৫৫.৯ শতাংশ। যদিও আগস্ট মাসে আমদানি কিছুটা কমে দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেলে নেমে আসে, তবুও ভারত তার জ্বালানি সরবরাহের জন্য এখনো সবচেয়ে বেশি নির্ভর করছে রাশিয়ার ওপরই।

পাশাপাশি, তেল বাণিজ্যের অর্থ লেনদেনের জটিলতা এড়াতে দুই দেশই নিজস্ব মুদ্রায় বাণিজ্যের এক কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। রুশ ব্যাংকিং খাতের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যকার মোট বাণিজ্যের প্রায় ৯৬ শতাংশই মার্কিন ডলারের পরিবর্তে নিজস্ব মুদ্রা রুবল ও রুপিতে নিষ্পত্তি হচ্ছে, যা ডলারের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে।

দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকে বৈশ্বিক ভূরাজনীতির উত্তপ্ত ইস্যুগুলোও স্থান পাবে। এর মধ্যে ইউক্রেন সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর ভারত বরাবরই জোর দিয়ে আসলেও মস্কোর সাথে তাদের ঐতিহাসিক ও কৌশলগত মিত্রতাও অক্ষুণ্ণ রেখেছে। ফলে চলমান যুদ্ধের সুরাহা, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল এবং ভবিষ্যৎ শান্তি প্রতিষ্ঠা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।

এদিকে, বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতির জন্য আরেকটি বড় উদ্বেগের বিষয়—পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা। এই সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ইতোমধ্যে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি গিয়ে ঠেকেছে। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ জ্বালানি আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারতের জন্য তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়া মানেই আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়া, যা একাধারে রুপি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। সে কারণেই রাশিয়ার সাথে জ্বালানি খাতের এই অংশীদারিত্ব দিল্লির কাছে কেবল কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নয়, বরং সরাসরি দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সাথে জড়িত।