শরীরে স্যালাইন চলছিল, হাতে লাগানো ছিল ক্যানুলা। নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক। তবুও রোগীর চাপ সামলাতে বিশ্রামে না গিয়ে স্যালাইন নিয়েই রোগীদের চিকিৎসা দিয়েছেন ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. ইরফান মাহমুদ।
শুক্রবার রাতে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, রাত তখন প্রায় ১২টা। জরুরি বিভাগে একের পর এক রোগী আসছিলেন চিকিৎসা নিতে। এ সময় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন ডা. ইরফান মাহমুদ। অসুস্থতার কারণে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসাও নিতে হয়। কর্তব্যরত নার্সরা তার শরীরে স্যালাইন দেন।
তবে জরুরি বিভাগে রোগীর চাপ থাকায় বিশ্রামে যাওয়ার সুযোগ হয়নি তার। স্যালাইন চলা অবস্থাতেই চেয়ারে বসে রোগীদের চিকিৎসা দিতে দেখা যায় তাকে। পরে রাত প্রায় ৩টার দিকে অন্য একজন চিকিৎসক জরুরি বিভাগের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি বাসায় ফেরেন।
ডা. ইরফান মাহমুদ বলেন, হাসপাতালে ৮৬ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে মাত্র ১৭ জন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে অল্পসংখ্যক চিকিৎসককে বিপুলসংখ্যক রোগীর চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, কনসালট্যান্ট ছাড়া মাত্র পাঁচজন চিকিৎসক দুই শিফটে জরুরি বিভাগে রোগী দেখছেন। একজন চিকিৎসককে দিনে দুই শিফটে প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
নিজের অসুস্থতার বিষয়ে ডা. ইরফান বলেন, রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে তার দুই থেকে তিনবার বমি হয়। পরে রক্তচাপ কমে গেলে তিনি অসুস্থ বোধ করেন। এ সময় নার্সরা তাকে স্যালাইন দেন।
তিনি বলেন, অসুস্থ থাকার পরও রাতে কয়েকজন গুরুতর রোগী চিকিৎসার জন্য আসায় স্যালাইন চলা অবস্থাতেই তাদের চিকিৎসা দিতে হয়েছে।


