...|...|...

লাইফস্টাইল

শরীরে যে ৮ লক্ষণ পাকস্থলী ক্যানসারের ইঙ্গিত দেয়

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ভোর রাত ৪:১৩
Shares
শরীরে যে ৮ লক্ষণ পাকস্থলী ক্যানসারের ইঙ্গিত দেয়

ছবি: সংগৃহীত

প্রাথমিক পর্যায়ে পাকস্থলীর ক্যানসার সাধারণত বড় কোনো লক্ষণ ছাড়াই নীরবে বাড়তে পারে। এর ফলে প্রাথমিক সতর্কবার্তাগুলোকে অনেকেই সাধারণ হজমজনিত সমস্যা বা গ্যাস্ট্রিকের সাধারণ সমস্যা বলে ভুল করেন। 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্ভাব্য লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—দীর্ঘস্থায়ী বদহজম, সাধারণ ওষুধেও না কম এমন বুকজ্বালা, সামান্য বমি বমি ভাব, ক্ষুধা হ্রাস এবং অল্প খাবার খেলেই পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতি। এছাড়া খাবার খাওয়ার পর পেট ফাঁপা বা ফুলে যাওয়া এবং ওপরের পেটে বিনা কারণে অস্বস্তি বোধ করাও এই রোগের লক্ষণ হতে পারে।

যে আটটি সতর্কবার্তা এড়িয়ে চলা উচিত নয়

চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার মতো সম্ভাব্য লক্ষণগুলো হলো: ১. দীর্ঘস্থায়ী বদহজম: বারবার বা অবিরত বদহজম, যা সহজে ভালো হয় না। ২. অবিরত বুকজ্বালা: প্রচলিত ওষুধ খাওয়ার পরও বুকজ্বালা ভাব চলতে থাকা। ৩. সামান্য বমি বমি ভাব: কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই বমি বমি ভাব লেগেই থাকা। ৪. ক্ষুধা হ্রাস: খাবারের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলা বা স্বাভাবিকের চেয়ে কম খাওয়া। ৫. দ্রুত পেট ভরে যাওয়া: সামান্য পরিমাণ খাবার খাওয়ার পরেই পেট ভরে গেছে বলে মনে হওয়া। ৬. খাওয়ার পর পেট ফাঁপা: খাবার গ্রহণের পরপরই ঘন ঘন পেট ফুলে যাওয়া বা গ্যাস হওয়া। ৭. ওপরের পেটে অস্বস্তি: পেটের ওপরের অংশে অবিরাম বা রহস্যজনক অস্বস্তি বোধ হওয়া। ৮. বিনা কারণে ওজন হ্রাস: খাদ্যতালিকা বা শারীরিক কার্যক্রমে কোনো পরিবর্তন না আনা সত্ত্বেও ওজন কমে যাওয়া।

উল্লেখ্য, এই লক্ষণগুলো কেবল পাকস্থলীর ক্যানসারের জন্যই নির্দিষ্ট নয়; বরং অন্যান্য সাধারণ স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণেও এগুলো হতে পারে।

রোগ বাড়লে লক্ষণগুলো আরও তীব্র হতে পারে রোগের অগ্রগতি হওয়ার সাথে সাথে আরও কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে—পেটে তীব্র ও একটানা ব্যথা, বমি হওয়া, রক্তস্বল্পতার কারণে অস্বাভাবিক ক্লান্তি এবং খাবার গিলতে সমস্যা হওয়া।

এছাড়া রক্তবমি হওয়ার ঘটনাও ঘটতে পারে। আরও উন্নত বা জটিল পর্যায়ে পেটে তরল পদার্থ জমে ফুলে যেতে পারে এবং বিশেষ করে রোগটি শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়লে ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ বর্ণ ধারণ করতে পারে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি?

এই লক্ষণগুলোর বেশিরভাগই ক্যানসার ছাড়াও অন্য কোনো সাধারণ কারণে হতে পারে। তবে যদি এই সমস্যাগুলো বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে স্থায়ী হয়, আরও খারাপের দিকে যায় বা দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটায়, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসকদের মতে, বিনা কারণে ওজন কমে যাওয়া, অল্প খাবারেই বারবার পেট ভরে যাওয়া, গিলতে সমস্যা হওয়া কিংবা পেটে দীর্ঘস্থায়ী অস্বস্তির মতো বিষয়গুলো একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়। পরিপাকতন্ত্র, ক্ষুধা, ওজন এবং শারীরিক শক্তির স্তরে নিয়মিত ঘটতে থাকা পরিবর্তনগুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখলে প্রয়োজনে সময়মতো চিকিৎসকের মূল্যায়ন নেওয়া সহজ হয়।

চিকিৎসকদের বিশেষ নোট

এই লক্ষণগুলো থাকলেই যে কারো পাকস্থলীর ক্যানসার হয়েছে—এমনটি নিশ্চিত করে বলা যায় না। কেবল যথাযথ চিকিৎসাগত মূল্যায়নের মাধ্যমেই এর আসল কারণ নির্ণয় করা সম্ভব। তবে কেউ যদি রক্তবমি করেন বা অন্য কোনো গুরুতর লক্ষণ অনুভব করেন, তবে তাকে অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে হবে।