...|...|...

লাইফস্টাইল

কাশফুলের সৌন্দর্য দেখতে ঢাকার কাছেই ঘুরে আসতে পারেন যেসব জায়গায়

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৩:৫৪
Shares
কাশফুলের সৌন্দর্য দেখতে ঢাকার কাছেই ঘুরে আসতে পারেন যেসব জায়গায়

ছবি: সংগৃহীত

শরৎ মানেই নীল আকাশে সাদা মেঘ, বাতাসে হালকা শীতের আমেজ আর মাঠের ধারে দুলতে থাকা কাশফুল। ব্যস্ত রাজধানীতেও এই ঋতুর ছোঁয়া মেলে। শহরের কংক্রিট পেরিয়ে একটু সময়ের জন্য প্রকৃতির কাছে যেতে চাইলে ঢাকার আশপাশের কাশবন হতে পারে এক বিকেলের সুন্দর গন্তব্য।

রাজধানী ও আশপাশের খোলা মাঠ, নদীর পাড়, চর এবং জলাভূমিতে এখন দেখা মিলছে সাদা কাশফুলের। দিয়াবাড়ি, আফতাবনগর, পূর্বাচল, আশুলিয়া, বিরুলিয়া, বসিলা-ওয়াশপুর এবং কেরানীগঞ্জের সারিঘাটের মতো জায়গাগুলোয় পাওয়া যেতে পারে শরতের এই পরিচিত দৃশ্য।

দিয়াবাড়িতে কাশফুলের সাথে লেকের হাওয়া

ঢাকার ভেতর থেকে সহজে কাশফুল দেখতে চাইলে দিয়াবাড়ি হতে পারে সুবিধাজনক একটি গন্তব্য। উত্তরা ১৫ ও ১৬ নম্বর সেক্টরের বিস্তীর্ণ খোলা জায়গায় শরতের সময়ে কাশফুল ফুটে ওঠে।

কাশবনের ভেতর হাঁটা, পরিবার বা বন্ধুদের সাথে সময় কাটানো এবং ছবি তোলার সুযোগ রয়েছে এখানে। দিয়াবাড়ির আকর্ষণ অবশ্য শুধু কাশফুলেই সীমাবদ্ধ নয়। কাছেই রয়েছে লেক এবং নৌকায় ঘোরার ব্যবস্থা।

দিয়াবাড়ি বটতলা থেকে কিছুটা সামনে ৩ নম্বর সেতুর দুই পাশে লেকের পাড়ে নৌকা পাওয়া যায়। ফলে কাশফুল দেখার পর লেকের পানিতে নৌভ্রমণেও কিছুটা সময় কাটানো যায়। আশপাশে খাবারের দোকানও রয়েছে।

দিয়াবাড়ি যেতে মেট্রোরেল ব্যবহার করা যায়। উত্তরা কেন্দ্র বা উত্তরা উত্তর এলাকায় নেমে সেখান থেকে রিকশা কিংবা স্থানীয় যানবাহনে কাশবনের এলাকায় যাওয়া সম্ভব।

আফতাবনগরে শহরের কাছেই কাশবন

রাজধানীর মধ্যেই থেকে শরতের কাশফুল দেখতে চাইলে আফতাবনগরও হতে পারে বিকেলের গন্তব্য। রামপুরা সেতুর দিক থেকে আফতাবনগরের ভেতরে গেলে বিভিন্ন খোলা জায়গায় কাশফুলের দেখা মেলে।

সময় কম থাকলেও এখানে ছোট একটি ভ্রমণ করে আসা যায়। বিকেলের দিকে গেলে নরম সূর্যের আলো কাশফুলের ওপর পড়ে, যা ছবি তোলার জন্যও তৈরি করে সুন্দর পরিবেশ।

তবে এসব কাশবনের অনেক জায়গাই খোলা বা অনির্ধারিত জমিতে গড়ে ওঠে। তাই প্রবেশের আগে স্থানীয়দের কাছ থেকে পথ ও নিরাপত্তা সম্পর্কে জেনে নেওয়া ভালো।

পূর্বাচল ও ৩০০ ফিটে খোলা আকাশের নিচে

শহরের কংক্রিটের ভিড় থেকে কিছুটা দূরে যেতে চাইলে পূর্বাচল ও তিনশ ফিট এলাকার খোলা জায়গাগুলো বেছে নেওয়া যায়। কুড়িল বিশ্বরোড থেকে তিনশ ফিট সড়ক ধরে পূর্বাচলের দিকে এগোলেই বিভিন্ন জায়গায় কাশফুলের দেখা পাওয়া যায়।

এ এলাকার বিশেষ আকর্ষণ হলো বিস্তৃত খোলা প্রান্তর ও বড় আকাশ। ফলে কাশফুলের পাশাপাশি শরতের পুরো প্রকৃতিও উপভোগ করা যায়।

তবে ছবি তুলতে গিয়ে রাস্তার একেবারে পাশে দাঁড়ানো উচিত নয়। যানবাহন চলাচল বেশি এমন জায়গায় রাস্তার ওপর বা খুব কাছে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার বদলে নিরাপদ স্থান বেছে নেওয়া জরুরি।

আশুলিয়ায় কাশফুলের সাথে পথের ভ্রমণ

ঢাকার কাছাকাছি একটু দীর্ঘ সময় নিয়ে ঘুরতে চাইলে আশুলিয়ার পথে যাওয়া যেতে পারে। মিরপুর বেড়িবাঁধ হয়ে আশুলিয়ার দিকে যেতে যেতে বিভিন্ন জায়গায় কাশবনের দেখা মিলতে পারে।

এই পথের বিশেষত্ব হলো, কাশফুল দেখার পাশাপাশি সড়কপথের ভ্রমণও উপভোগ করা যায়। শহরের ব্যস্ততা পেছনে ফেলে এগোলে চোখে পড়ে খোলা জায়গা, জলাভূমি ও গ্রামীণ পরিবেশ।

তাই একটি নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে ফিরে না এসে পথের বিভিন্ন স্থানে থেমে প্রকৃতির কাছাকাছি কিছুটা সময় কাটানো যায়। তবে বের হওয়ার আগে সেদিনের সড়ক পরিস্থিতি দেখে নেওয়া ভালো।

বিরুলিয়ায় কাশফুলের সাথে নৌভ্রমণ

কাশফুল দেখার পাশাপাশি নদীতে নৌকায় ঘোরার ইচ্ছা থাকলে বিরুলিয়ার কথা ভাবা যায়। তুরাগ নদীর তীরে হওয়ায় এখানে নৌভ্রমণের সুযোগ রয়েছে।

মাঝেমধ্যে বৃষ্টির কারণে নদী ও আশপাশের নিচু জায়গাগুলোতে পানি থাকে। কোথাও পানিতে ভরা জমি, আবার কোথাও নদীর পাড়ের সবুজের মধ্যে মাথা তুলে থাকে কাশফুল। ফলে কাশবন দেখার সাথে নৌভ্রমণও যোগ করা যেতে পারে।

মিরপুর, আশুলিয়া বা আমিনবাজারের দিক থেকে বিরুলিয়ায় যাওয়া যায়। সেখান থেকে স্থানীয় রিকশা বা অটোরিকশায় নদীর ঘাটে পৌঁছানো সম্ভব।

কেরানীগঞ্জের সারিঘাটে সাদা কাশের মাঠ

শহরের খুব কাছে থেকেও ব্যস্ততা থেকে কিছুটা দূরে সময় কাটাতে চাইলে কেরানীগঞ্জের সারিঘাট হতে পারে আরেকটি বিকল্প। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের এই এলাকায় বিস্তীর্ণ জায়গাজুড়ে ফুটেছে কাশফুল। শরতের সময়ে প্রতিদিনই আশপাশের মানুষ সেখানে বেড়াতে আসছেন।

নদী, সবুজ আর সাদা কাশফুল মিলিয়ে সারিঘাটে তৈরি হয়েছে আলাদা এক শরতের আবহ। বিকেলের দিকে গেলে তীব্র রোদ কিছুটা কমে আসে, বাতাসও তুলনামূলক আরামদায়ক থাকে।

পরিবার বা বন্ধুদের সাথে গেলে কাশবনের ভেতরে না ঢুকে নির্দিষ্ট পথ ধরে হাঁটা এবং ছবি তোলাই ভালো।

বসিলা-ওয়াশপুরেও মিলবে কাশফুল

মোহাম্মদপুরের বসিলা সেতুর ওপার, ওয়াশপুর ও ঘাটারচরের দিকের খোলা জমি এবং নদীতীরবর্তী এলাকাতেও দেখা যেতে পারে কাশফুল।

খুব বেশি দূরে যেতে না চাইলে বসিলা-ওয়াশপুর এলাকা ছোট একটি বিকেলের ভ্রমণের জন্য বিবেচনায় রাখা যায়। তবে এসব জায়গার কিছু অংশ ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি, নির্মাণাধীন এলাকা বা অনির্ধারিত খোলা জায়গা হতে পারে। তাই স্থানীয়দের অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত জমিতে প্রবেশ না করাই ভালো।

কখন গেলে কাশফুল বেশি সুন্দর?

শুধু জায়গা ঠিক করলেই হবে না, কাশফুল দেখার জন্য সময় নির্বাচনও গুরুত্বপূর্ণ। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে অক্টোবরের শেষভাগ পর্যন্ত ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় কাশফুলের দৃশ্য বিশেষভাবে চোখে পড়ে।

অবশ্য জায়গাভেদে ফুলের স্থায়িত্ব ভিন্ন হতে পারে। বৃষ্টিতে কাশফুল নুয়ে যেতে পারে, আবার বাতাস ও সময়ের সাথে এর শুভ্রতাতেও পরিবর্তন আসে। তাই বের হওয়ার দিন সকালে আবহাওয়া ও স্থানীয় পরিস্থিতি দেখে নেওয়া ভালো।

বিকালের শেষভাগ সাধারণত হাঁটা ও ছবি তোলার জন্য আরামদায়ক। তবে কাশফুল দেখতে গিয়ে ফুল ছেঁড়া কিংবা গাছ মাড়িয়ে ছবি তোলা থেকে বিরত থাকা উচিত। কাশবন অক্ষত থাকলেই প্রকৃতির এই সৌন্দর্য দীর্ঘদিন উপভোগ করা সম্ভব।

শরতের স্থায়িত্ব বেশি নয়। তাই নীল আকাশ, সাদা মেঘ আর বাতাসে দুলতে থাকা কাশফুলের এই সময়টায় ঢাকার কাছেই একটি বিকেল প্রকৃতির জন্য রাখা যেতে পারে। ব্যস্ত শহর থেকে অল্প সময়ের জন্য দূরে গিয়ে কাশফুলের শুভ্রতা, খোলা আকাশ কিংবা নদীর পাড়ে কাটানো সেই সময় ফিরে আসার পরও অনেকক্ষণ মনে থেকে যেতে পারে।