...|...|...

খেলা

রোনালদোর পর পর্তুগালের আর্মব্যান্ড উঠছে কার হাতে

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ নভেম্বর ২০২৬, দুপুর ২:৩৭ | আপডেট: ৬ নভেম্বর ২০২৬, দুপুর ২:৪৪
Shares
রোনালদোর পর পর্তুগালের আর্মব্যান্ড উঠছে কার হাতে

ছবি: সংগৃহীত

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের ঘোষণার পর নতুন অধিনায়ক খুঁজতে হচ্ছে পর্তুগালকে। প্রায় দুই দশক ধরে রোনালদোর বাহুতে থাকা অধিনায়কের আর্মব্যান্ড এবার উঠতে পারে বের্নার্দো সিলভার হাতে। পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটি ও রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক এই মিডফিল্ডার। তবে ব্রুনো ফার্নান্দেজ ও রুবেন দিয়াসও রয়েছেন সম্ভাব্য অধিনায়কের তালিকায়।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক আবেগঘন ভিডিওতে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন রোনালদো। ২৩ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোল করে পর্তুগালের জার্সিতে অধ্যায়ের ইতি টানেন তিনি। এরপর থেকেই জাতীয় দলের পরবর্তী অধিনায়ক কে হচ্ছেন, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

পর্তুগিজ বার্তা সংস্থা লুসার প্রতিবেদন বলছে, রোনালদোর উত্তরসূরি হিসেবে বের্নার্দো সিলভাকেই সবচেয়ে উপযুক্ত মনে করা হচ্ছে। ৩২ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার পর্তুগালের হয়ে এখন পর্যন্ত ১১৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। নিয়মিত খেলোয়াড়দের মধ্যে অভিজ্ঞতার দিক থেকেও তিনি এগিয়ে।

লুসার প্রকাশিত তালিকায় বের্নার্দোর পরের অবস্থানে রয়েছেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ ও রুবেন দিয়াস। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মিডফিল্ডার ব্রুনো দেশের হয়ে খেলেছেন ৯৭টি ম্যাচ। অন্যদিকে ম্যানচেস্টার সিটির ডিফেন্ডার দিয়াসের আন্তর্জাতিক ম্যাচসংখ্যা ৮৪।

বের্নার্দোর সম্ভাবনা জোরালো হওয়ার পেছনে রয়েছে জাতীয় দলের নেতৃত্বের পূর্বনির্ধারিত ক্রমও। গত জুনে পর্তুগালের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় হোর্হে জেসুস পাঁচজনের একটি নেতৃত্বের তালিকা তৈরি করেছিলেন। সেখানে প্রথমে ছিলেন রোনালদো। তার পরেই রাখা হয়েছিল বের্নার্দোকে। তালিকার পরবর্তী অবস্থানে ছিলেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ, রুবেন দিয়াস ও গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা।

এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে রোনালদোর পর অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়ার কথা বের্নার্দোরই। তবে এ বিষয়ে কোচ জেসুস কিংবা পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

অবশ্য রোনালদোর অনুপস্থিতিতে জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে ব্রুনো ও দিয়াসেরও। গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে রোনালদো ও বের্নার্দো শুরুর একাদশে না থাকায় অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন দিয়াস। শারীরিক সমস্যার কারণে ওই ম্যাচে ছিলেন না ব্রুনো।

এরপর অক্টোবরে ডেনমার্ক ও নরওয়ের বিপক্ষে দুটি ম্যাচে পর্তুগালের অধিনায়ক হিসেবে মাঠে নামেন ব্রুনো। তবে নরওয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে বের্নার্দো মাঠে নামার পর একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ঘটে। ব্রুনো নিজের বাহু থেকে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড খুলে বের্নার্দোর হাতে তুলে দেন। এতে জাতীয় দলের নেতৃত্বের ক্রমে বের্নার্দোর অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়।

ব্রুনোর পক্ষেও রয়েছে শক্ত যুক্তি। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অধিনায়ক হিসেবে নিয়মিত দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। জাতীয় দলের হয়েও অধিনায়কের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম গ্লোবোর বিশ্লেষণেও নতুন অধিনায়ক হওয়ার সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ব্রুনোর নাম উঠে এসেছে। মাঠে নেতৃত্ব দেওয়ার দক্ষতা, সতীর্থদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং জাতীয় দলের সাম্প্রতিক নেতৃত্বের অভিজ্ঞতাকে তার বড় শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে রুবেন দিয়াসও এই দৌড়ে পিছিয়ে নেই। পর্তুগালের রক্ষণভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ম্যানচেস্টার সিটির হয়েও তার নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা রয়েছে। জাতীয় দলের হয়ে নরওয়ের বিপক্ষে অধিনায়কত্ব করার অভিজ্ঞতাও তাকে আলোচনায় রেখেছে।

তবে অভিজ্ঞতা, দলের ভেতরে অবস্থান এবং নেতৃত্বের পূর্বনির্ধারিত তালিকা সব মিলিয়ে বের্নার্দোই আপাতত এগিয়ে। ২০২৬ সালে ম্যানচেস্টার সিটি ছেড়ে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়া এই মিডফিল্ডার রোনালদোর বিদায়ের পর তাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বার্তা দিয়েছেন।

ইনস্টাগ্রামে রোনালদোকে উদ্দেশ করে বের্নার্দো লিখেছেন, ‘এত বছর তোমার পাশে খেলতে পারা নিঃসন্দেহে অনেক গর্বের ও আনন্দের ছিল। তুমি আমাদের সবার জন্য অনুপ্রেরণা। সবকিছুর জন্য অনেক ধন্যবাদ।’

বের্নার্দোর পাশাপাশি রোনালদোর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ ও রুবেন দিয়াসও। পর্তুগিজ ফুটবলে তার অবদান এবং নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করার বিষয়টি তুলে ধরেছেন তারা।

২০০৩ সালের আগস্টে কাজাখস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে পর্তুগাল জাতীয় দলে অভিষেক হয় রোনালদোর। ২০০৭ সালে প্রথমবার অধিনায়কের দায়িত্ব পান তিনি। এরপর দীর্ঘ সময় দলটির নেতৃত্ব দিয়েছেন পাঁচবারের ব্যালন ডি'অরজয়ী এই তারকা। তার অধিনায়কত্বে ২০১৬ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ২০১৯ ও ২০২৫ সালে উয়েফা নেশন্স লিগের শিরোপা জেতে পর্তুগাল।

রোনালদোর বিদায়ের সাথে সাথে তার সাত নম্বর জার্সির ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। গত অক্টোবরে ডেনমার্কের বিপক্ষে রোনালদোর অনুপস্থিতিতে সাত নম্বর জার্সি পরে খেলেছিলেন রাফায়েল লিয়াও। তবে এই জার্সির স্থায়ী উত্তরাধিকারী কে হবেন, সে বিষয়েও এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।