আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিদায়ের ঘোষণায় আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফুটবলাররা। সেই তালিকায় রয়েছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার জুনিয়রও। দীর্ঘদিনের মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বী রোনালদোর প্রতি মাত্র এক শব্দে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেইমারের সেই বার্তা ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আগ্রহ।
ইনস্টাগ্রামে রোনালদোর অবসরের ঘোষণা প্রকাশের পর প্রতিক্রিয়া জানান নেইমার। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড পর্তুগিজ ভাষায় লেখেন, ‘Lenda’। বাংলায় যার অর্থ ‘কিংবদন্তি’। ছোট্ট এই শব্দের মাধ্যমেই আন্তর্জাতিক ফুটবলে রোনালদোর দীর্ঘ ক্যারিয়ার ও অবদানের প্রতি সম্মান জানান তিনি।
২০০৩ সালে পর্তুগালের জার্সিতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে যাত্রা শুরু করেছিলেন রোনালদো। দীর্ঘ ২৩ বছরের পথচলায় এবার জাতীয় দলকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ৪১ বছর বয়সী এই তারকা। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, আসন্ন নভেম্বরের আন্তর্জাতিক বিরতির পর পর্তুগালের ঐতিহাসিক ৭ নম্বর জার্সি ফিরিয়ে দেবেন।
পর্তুগালের হয়ে অসাধারণ এক অধ্যায় শেষ করছেন রোনালদো। জাতীয় দলের জার্সিতে ২৩৪ ম্যাচ খেলে করেছেন ১৪৬ গোল। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডও রয়েছে তার দখলে। দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজেকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি।
জাতীয় দলের হয়ে রোনালদোর অর্জনের তালিকাও বেশ সমৃদ্ধ। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই তারকার নেতৃত্বে ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জেতে পর্তুগাল। এরপর ২০১৯ ও ২০২৫ সালে উয়েফা নেশনস লিগের শিরোপাও জেতে দলটি। দেশের ফুটবল ইতিহাসে তার অবদান তাই শুধু গোল বা রেকর্ডে সীমাবদ্ধ নয়।
ক্লাব ফুটবলে একসময় নেইমার ও রোনালদো ছিলেন দুই ভিন্ন শিবিরের প্রতিনিধি। বার্সেলোনার হয়ে খেলেছেন নেইমার, আর রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে দীর্ঘদিন মাঠ মাতিয়েছেন রোনালদো। স্প্যানিশ ফুটবলের এল ক্লাসিকোতে দুজনকে একাধিকবার মুখোমুখি হতে হয়েছে। মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও একে অপরের দক্ষতা ও অর্জনের প্রতি বরাবরই শ্রদ্ধাশীল ছিলেন দুই তারকা।
নেইমার নিজেও আন্তর্জাতিক ফুটবলে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন। চলতি বছরের শুরুতে ব্রাজিলের জাতীয় দল থেকে বিদায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান তিনি। দেশের হয়ে ১৩০ ম্যাচে ৮০ গোল করে ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড নিজের করে রেখেছেন এই ফরোয়ার্ড।
বার্সেলোনা ও প্যারিস সেন্ট জার্মেইর সাবেক এই তারকা আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের অধ্যায় শেষ করার অভিজ্ঞতা থেকেই হয়তো রোনালদোর বিদায়ের আবেগ বুঝতে পারছেন। তাই দীর্ঘ কোনো বক্তব্য নয়, একটি শব্দেই জানিয়ে দিলেন নিজের অনুভূতি ‘কিংবদন্তি’।



