...|...|...

আইন ও আদালত

রানা প্লাজা নির্মাণে দুর্নীতি: সোহেল রানাসহ ৮ আসামির রায় আজ

টাইমস টুুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:০৯ | আপডেট: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১২:২০
Shares
রানা প্লাজা নির্মাণে দুর্নীতি: সোহেল রানাসহ ৮ আসামির রায় আজ

রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানা। ছবি: সংগৃহীত

সাভারের ঐতিহাসিক রানা প্লাজা ভবন নির্মাণসংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় ভবনটির মালিক সোহেল রানাসহ আট আসামির রায় আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ঘোষণা করা হচ্ছে। ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক এম তারিকুল কবীর এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করবেন। 

এর আগে গত ১৬ আগস্ট রায়ের দিন ধার্য থাকলেও রায় প্রস্তুত না হওয়ায় তা পিছিয়ে আজকের দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল।

আলোচিত এই মামলায় অভিযুক্ত আট আসামি হলেন- রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানা, সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র রেফাত উল্লাহ, সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়, নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান রাসেল, সাবেক টাউন প্ল্যানার ফারজানা ইসলাম এবং লাইসেন্স পরিদর্শক মো. আবদুল মোত্তালিব।

আসামিদের মধ্যে সোহেল রানা বর্তমান দুর্নীতি মামলায় জামিনে থাকলেও রানা প্লাজা ধসে শ্রমিক নিহতের ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা মামলায় কারাগারে বন্দি রয়েছেন। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে তাকে কঠোর নিরাপত্তায় কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হবে। এছাড়া জামিনে থাকা অন্য আসামিদেরও আদালতে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

তবে বিচার চলাকালীন আসামি মাহবুবুর রহমান ও ফারজানা ইসলাম পলাতক রয়েছেন এবং মামলার অপর আসামি সোহেল রানার বাবা আবদুল খালেক ও মা মর্জিনা খাতুন বেগম মারা যাওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকালে সাভার বাসস্ট্যান্ডের কাছে রানা প্লাজা ভবন ধসে পড়ার মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১ হাজার ১৩৬ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারান, যাদের অধিকাংশই ছিলেন পোশাক কারখানার শ্রমিক। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর ভবনটির নির্মাণ, নকশার ত্রুটি, অতিরিক্ত তলা নির্মাণ এবং পোশাক কারখানা স্থাপনের অনুমোদনে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে প্রাথমিকভাবে ভবনটি সোহেল রানার বাবার নামে থাকায় তার নাম না থাকলেও, অধিকতর তদন্তে ভবন নির্মাণ ও অনুমোদনে সোহেল রানার প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলে।

পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি সোহেল রানাসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া ও বিভিন্ন পর্যায়ে আসামিদের বাদ দেওয়ার পর শেষ পর্যন্ত ১০ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয় এবং বাবা-মা মারা যাওয়ায় বর্তমানে আট আসামির বিরুদ্ধে মামলার বিচারকার্য সম্পন্ন হয়েছে।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০০৬ সালের ১০ এপ্রিল সাভার পৌরসভা থেকে ‘রানা প্লাজা’ নামে ৬ তলা শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণের নকশা অনুমোদন নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে আরও চার তলা বাড়ানোর অনুমোদন নেওয়া হলেও শপিং কমপ্লেক্সের এই ভবনে পরবর্তীতে নিয়মবহির্ভূতভাবে পাঁচটি পোশাক কারখানা স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়।

নকশা লঙ্ঘন, অতিরিক্ত তলা নির্মাণ এবং কারখানা চালুর ক্ষেত্রে পৌর কর্মকর্তাদের চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়ার বিষয়গুলো মামলার চার্জশিটে উঠে আসে।

২০১৭ সালের ২১ মে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষে প্রায় ১২ বছরের বেশি সময় পর আজ এই মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা হতে যাচ্ছে। রানা প্লাজা ধসের পর দায়ের হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে ভবন নির্মাণ ও দুর্নীতির অভিযোগে করা এই মামলাটি অন্যতম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আইনি লড়াই।