সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেককে বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটি জানিয়েছে, এ ধরনের বঞ্চনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে দলের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এ কথা জানান।
তিনি বলেন, কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকলে তাকে সরকারি চাকরির অযোগ্য বিবেচনা করা যায়। তবে প্রার্থী নিজে বা তার পরিবার-স্বজনদের রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নিয়োগ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, প্রার্থী ও তার পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই করে নিয়োগের এই প্রবণতা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও বিদ্যমান ছিল, যে সরকার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে। মেধার অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংঘটিত এই অভ্যুত্থানের পরবর্তী সরকারের সময়েও রাজনৈতিক বিবেচনায় মেধাবীদের বঞ্চিত করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, মেধায় উত্তীর্ণ সবাইকে নিয়োগপত্র দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
নিয়োগ ও পদোন্নতিতে পুলিশ-গোয়েন্দা যাচাইয়ের প্রচলিত পদ্ধতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই ব্যবস্থা মূলত ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের ধারাবাহিকতা, যখন সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে চাকরিপ্রার্থীদের রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই করা হতো।
স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়েও এই চর্চা অব্যাহত থাকার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ের দলীয় সরকার গোয়েন্দা যাচাইয়ের মাধ্যমে বিরোধী মতাদর্শের অনুসারী ও তাদের পরিবারকে সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত করার পাশাপাশি নিজস্ব অনুগতদের নিয়োগ নিশ্চিত করে এসেছে। এতে প্রশাসনে দলীয়করণ ঘটে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান সরকারও যদি অতীতের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে, তবে তা নতুন আন্দোলনের জন্ম দিতে পারে।
বিবৃতির শেষে মেধার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ সব প্রার্থীর নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এই নেতা।


