যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি করতে নতুন করে তৎপরতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে জাপান। একই সঙ্গে তেহরানকে আলোচনায় ‘সর্বোচ্চ নমনীয়তা’ প্রদর্শনের অনুরোধও জানিয়েছে টোকিও।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগি এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে টেলিফোন আলাপে এসব বিষয় উঠে আসে। জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, মোতেগি উল্লেখ করেছেন যে গত সপ্তাহ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত করা, স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে জাপান ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে এই কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।
মোতেগি ইরানের প্রতি ‘সর্বোচ্চ নমনীয়তা’ বজায় রাখার জোরালো আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে জাপানের সহ-আয়োজিত সামুদ্রিক সহযোগিতা বিষয়ক বৈঠকের প্রসঙ্গও টেনে আনেন তিনি।
জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হরমুজ প্রণালী ও বাব আল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে অবাধ ও নিরাপদ নৌচলাচল পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ নিয়ে পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন বলেও মত দেন তিনি। এ বিষয়ে ইরানকে গঠনমূলক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান মোতেগি।
বিবৃতি অনুযায়ী, আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনার বর্তমান অবস্থা এবং ইরানের অবস্থান তুলে ধরেন। দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীই পরিস্থিতির কূটনৈতিক সমাধানে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে একমত হন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এরপর থেকে হরমুজ প্রণালী ও আঞ্চলিক নৌচলাচলকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। জুনে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর সংঘাত প্রশমনের চেষ্টা চললেও দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে।


