...|...|...

বিশ্ব

মোদির নামে মাছের বাজার, ভারত জুড়ে বিতর্ক

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, রাত ৮:০৯ | আপডেট: ৩১ আগস্ট ২০২৬, রাত ৯:৫৩
Shares
মোদির নামে মাছের বাজার, ভারত জুড়ে বিতর্ক

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের গুজরাটের সুরাটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নামে একটি পাইকারি মাছের বাজারের নামকরণ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ‘শ্রী নরেন্দ্র মোদি হোলসেল ফিশ মার্কেট’ নাম দেওয়ার প্রস্তাবের পর মৎস্য ব্যবসায়ীদের একাংশ আপত্তি জানালে উদ্বোধনের পরদিনই প্রধানমন্ত্রীর নাম ও ছবি থাকা ব্যানার সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়।
সোমবার সুরাট ফিশ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে বাজারটির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাজারের নাম লেখা ব্যানারে নরেন্দ্র মোদির ছবি রাখা হয়েছিল। তবে সংগঠনের একাংশের বিরোধিতার পর মঙ্গলবার ব্যানারটি ঢেকে দেওয়া হয়।
সুরাটের এই বাজারটি শহরের প্রথম পৌর করপোরেশন পরিচালিত পাইকারি মাছের বাজার। এতে ৮০টি মাছ বিক্রির দোকান বা আউটলেটের ব্যবস্থা রয়েছে।
বাজারটি নির্মাণে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ‘প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা’ থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ও গুজরাট সরকার ৩ কোটি রুপি করে এবং সুরাট মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন দেড় কোটি রুপি দিয়েছে।
বাজারের নামকরণ নিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই কয়েকজন ব্যবসায়ীর মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। মাছ ব্যবসায়ী সুরেন্দ্র লাশকারি নামকরণের বিরোধিতা করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিরামিষভোজী হওয়ায় তার নামে মাছের বাজারের নামকরণ করলে প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তিনি বাজারের নাম পরিবর্তনের জন্য অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির কাছে অনুরোধ করেছেন বলেও জানান।
তবে সুরাট ফিশ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কালপেশ নাভসারিওয়ালা নামকরণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা’র অর্থায়নে বাজারটি তৈরি হয়েছে এবং দেশের মৎস্য খাতের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে তার নামে বাজারের নামকরণ করা হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, নামকরণের আগে অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের সাথে আলোচনা করা হয়েছিল।
এদিকে, বাজারটির নাম চূড়ান্ত করার এখতিয়ার এখনো সুরাট মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের হাতে রয়েছে। করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী রাজেশ গাঞ্জাওয়ালা জানান, উদ্বোধনের কয়েক দিন আগে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে নামকরণের প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়। বিষয়টি এখন সাংস্কৃতিক কমিটির বিবেচনায় রয়েছে।
সাংস্কৃতিক কমিটির সিদ্ধান্তের পর বিষয়টি স্থায়ী কমিটি ও পরে পৌর করপোরেশনের সাধারণ বোর্ডে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
ফলে উদ্বোধনের পর বাজারটির নাম নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের এখনো চূড়ান্ত সমাধান হয়নি। আপাতত নরেন্দ্র মোদির নাম ও ছবি থাকা ব্যানারটি ঢেকে রাখা হয়েছে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস