লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা অধ্যায়ের শেষ ম্যাচ ঘিরে বুয়েনস অ্যাইরেসে যখন চলছে উৎসবের প্রস্তুতি, তখন ভিন্ন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে প্রতিপক্ষ বেনিন। আফ্রিকার দেশটির অভিযোগ, আর্জেন্টিনায় পৌঁছানোর পরও তাদের জন্য পর্যাপ্ত লজিস্টিক ও অনুশীলন সুবিধা নিশ্চিত করা হয়নি। দীর্ঘ ভ্রমণ থেকে শুরু করে হোটেলের সুযোগ-সুবিধা, জিমের সরঞ্জাম এবং অনুশীলনের মাঠ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বেনিন শিবির।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। ম্যাচটি হতে যাচ্ছে মেসির জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচ। তাই স্বাভাবিকভাবেই এই ম্যাচ ঘিরে আর্জেন্টিনায় ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে ম্যাচের আগে বেনিনের নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। আফ্রিকান সংবাদমাধ্যম মেগা স্পোর্টস মিডিয়া প্রথম এসব অভিযোগ প্রকাশ করে। পরে ফরাসি সাংবাদিক রোমাঁ মোলিনাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
বেনিনের ভোগান্তির শুরু অবশ্য আর্জেন্টিনায় পৌঁছানোর আগেই। মেগা স্পোর্টস মিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, বাণিজ্যিক ফ্লাইটে প্রায় ২৫ ঘণ্টা ভ্রমণ করে আর্জেন্টিনায় পৌঁছাতে হয়েছে দলটিকে। দীর্ঘ এই যাত্রার সময় দলের একজন ভিডিও বিশ্লেষক মাথা ঘুরে পড়ে যান এবং কিছু সময়ের জন্য জ্ঞান হারান।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম লা প্যারিসিয়েন জানিয়েছে, বিজনেস ক্লাসে দীর্ঘ ভ্রমণের পর অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই ভিডিও বিশ্লেষক। পরে অবশ্য তার জ্ঞান ফিরে আসে।
আর্জেন্টিনায় পৌঁছানোর পরও বেনিন দলের স্বস্তি ফেরেনি বলে জানিয়েছে মেগা স্পোর্টস মিডিয়া। তাদের প্রতিবেদনে হোটেলের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে একাধিক সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেনিনের খেলোয়াড়দের জন্য নির্ধারিত হোটেলের প্রথম তলায় গরম পানির ব্যবস্থা ছিল না। একই সাথে হোটেলের সনা বা বাষ্পস্নানের সুবিধাটিও অচল ছিল।
পেশাদার একটি জাতীয় দলের প্রস্তুতির জন্য জিমের সরঞ্জামও যথেষ্ট ছিল না বলে অভিযোগ করেছে বেনিন। মেগা স্পোর্টস মিডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানে ছিল মাত্র দুটি ট্রেডমিল ও দুটি স্টেশনারি বাইসাইকেল।
এর সাথে যোগ হয়েছে দলের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে জটিলতা। বেনিন থেকে পাঠানো কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম তখনো আর্জেন্টিনায় পৌঁছায়নি। এমনকি দলের তিন খেলোয়াড়ও তখনো সতীর্থদের সাথে যোগ দিতে পারেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অনুশীলনের মাঠ নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে বেনিনের। দলটিকে কৃত্রিম টার্ফে অনুশীলন করতে হচ্ছে। অথচ মেসির বিদায়ী ম্যাচের ভেন্যু মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের মাঠ তৈরি হাইব্রিড গ্রাসে। ফলে ম্যাচের আগে অনুশীলনের পরিবেশকে আদর্শ বলা যাচ্ছে না।
মেগা স্পোর্টস মিডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেসির বিদায়ী ম্যাচের আগে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের একটি দলের জন্য প্রয়োজনীয় আদর্শ প্রস্তুতি পরিবেশ থেকে অনেকটাই দূরে রয়েছে বেনিন। জিমের অপ্রতুল সরঞ্জাম, সনা বন্ধ থাকা এবং অনুশীলনের সুবিধা নিয়ে তাদের অস্বস্তির বিষয়গুলোও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
শুধু ভ্রমণ ও সুযোগ-সুবিধা নয়, ম্যাচটির আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ফরাসি সাংবাদিক রোমাঁ মোলিনা। তার প্রশ্ন, ‘আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) যদি মেসির বিদায়ি ম্যাচের পুরো রাজস্ব পায়, তাহলে বেনিন কেন টাকা পাবে না?’
মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ ঘিরে আর্জেন্টিনায় অবশ্য উন্মাদনার কমতি নেই। বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচের টিকিট বিক্রি শুরুর মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। জাতীয় দলের হয়ে শেষবার মাঠে নামার প্রস্তুতি হিসেবে মেসিও আর্জেন্টিনার অনুশীলন ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন।
এর আগে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলতে গিয়ে একই ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়েছিল পশ্চিম আফ্রিকার আরেক দল বুরকিনা ফাসো। ম্যাচ শুরুর মাত্র ছয় ঘণ্টা আগে আর্জেন্টিনায় পৌঁছেছিল তারা।
এবার মেসির বিদায়ী ম্যাচের আগে বেনিনের একের পর এক অভিযোগ সামনে আসায় আর্জেন্টিনার আয়োজন ও ম্যাচটির ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।



