...|...|...

খেলা

এশিয়ার ফুটবলে নতুন প্রতিযোগিতা, নেশন্স লিগেই বিশ্বকাপ বাছাই

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৩:৩৩ | আপডেট: ৫ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৩:২৭
Shares
এশিয়ার ফুটবলে নতুন প্রতিযোগিতা, নেশন্স লিগেই বিশ্বকাপ বাছাই

ছবি: সংগৃহীত

এশিয়ার আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রীতি ম্যাচের সংখ্যা কমিয়ে নিয়মিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)। এ লক্ষ্যে নেশন্স লিগভিত্তিক নতুন কাঠামো চালুর পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বকেও নেশন্স লিগের একই কাঠামোর সাথে যুক্ত করার চিন্তা করা হচ্ছে।

ইএসপিএনের হাতে আসা এএফসির একটি খসড়া নথি অনুযায়ী, ২০৩০ সাল থেকে দুই বছর পরপর নেশন্স লিগ ধরনের প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে এশিয়ার ৪৭টি সদস্য দেশকে তিনটি স্তরে ভাগ করা হবে। প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরে থাকবে ১৮টি করে দল, আর তৃতীয় স্তরে খেলবে ১১টি দল। তবে পূর্ণাঙ্গ কাঠামো চালুর আগে ২০২৮-২৯ মৌসুমে পরীক্ষামূলক একটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তাব রয়েছে।

এএফসির নতুন পরিকল্পনায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে। বর্তমানে যেভাবে আলাদা বাছাইপর্ব অনুষ্ঠিত হয়, সেই পদ্ধতির পরিবর্তে নেশন্স লিগের কাঠামোর মাধ্যমেই দুই প্রতিযোগিতার বাছাইপর্ব সম্পন্ন করার কথা ভাবা হচ্ছে।

সংস্থাটির বিবেচনায়, আলাদা নেশন্স লিগ চালু করলে আন্তর্জাতিক সূচিতে অতিরিক্ত ম্যাচ যোগ হওয়ার পাশাপাশি পরিচালন ব্যয়ও বাড়বে। তাই নতুন প্রতিযোগিতাকে বাছাইপর্বের সাথে একীভূত করে একই ব্যবস্থায় নিয়মিত আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

বিশ্বকাপের সূচির সাথে সামঞ্জস্য রেখে ২০৩২-৩৩ মৌসুমে নেশন্স লিগের একটি সংস্করণ চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রথম স্তরে থাকা প্রতিটি দল ঘরের মাঠ ও প্রতিপক্ষের মাঠে ম্যাচ খেলবে। অর্থাৎ এই স্তরের প্রতিটি দলের মোট ম্যাচ হবে ১২টি।

প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম স্তরের শীর্ষ ছয় দল সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে। আর সপ্তম থেকে দশম স্থানে থাকা দলগুলো বিশ্বকাপের বাকি জায়গাগুলোর জন্য রাউন্ড-রবিন প্লে-অফে লড়াই করবে।

শুধু বিশ্বকাপের টিকিট নয়, তিন স্তরেই প্রতিটি ম্যাচের ফল গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে রাখা হচ্ছে পদোন্নতি ও অবনমনের ব্যবস্থা। প্রতিটি স্তরের শীর্ষ দুই দল উঠে যাবে পরের স্তরে। বিপরীতে নিচের দুই দলকে নেমে যেতে হবে এক ধাপ নিচের স্তরে।

এএফসির সাধারণ সম্পাদক দাতুক সেরি উইন্ডসর জনও নিয়মিত ও কাঠামোবদ্ধ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন। ২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ফিফা উইন্ডোর সময় কাঠামোবদ্ধ প্রতিযোগিতার প্ল্যাটফর্ম চালু করে নিয়মিত উচ্চমানের ম্যাচ খেলার সুযোগ নিশ্চিত করতে চায় এএফসি। একই সাথে নেশন্স লিগের মতো প্রতিযোগিতার প্রতি বাণিজ্যিক অংশীদারদের আগ্রহও বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তবে ২০৩০ সাল থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে নতুন ব্যবস্থা চালুর আগে এর কার্যকারিতা যাচাই করতে ২০২৮-২৯ মৌসুমে একটি পাইলট টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তাব রয়েছে। পরীক্ষামূলক আয়োজন সফল হলে পরবর্তী সময়ে এশিয়ার আন্তর্জাতিক ফুটবলে নেশন্স লিগভিত্তিক কাঠামো বাস্তবায়নের পথ আরও সহজ হবে।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এশিয়ার ফুটবলে প্রীতি ম্যাচের সংখ্যা কমে প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক ম্যাচ বাড়বে। একই সাথে বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বের প্রচলিত কাঠামোতেও আসতে পারে বড় ধরনের পরিবর্তন।