...|...|...

বিশ্ব

মার্কিন সমুদ্র অবরোধে তুরস্ক-চীনের দিকে ঝুঁকছে ইরান

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৩:৫৯
Shares
মার্কিন সমুদ্র অবরোধে তুরস্ক-চীনের দিকে ঝুঁকছে ইরান

আগ্রি প্রদেশে তুরস্ক-ইরান সীমান্তের গুরবুলাক ক্রসিংয়ে ট্রাকের সারি , ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সমুদ্র অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার চাপে বৈদেশিক বাণিজ্য ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিকল্প পথ হিসেবে তুরস্ক ও চীনের সঙ্গে স্থল ও রেলপথের বাণিজ্য বাড়ানোর দিকে ঝুঁকছে ইরান। একই সঙ্গে রিয়ালের বিনিময় হার নির্ধারণে বাজারকে আরও স্বাধীনতা দেওয়ার নীতি নিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মোহাম্মদ এসলামি আল জাজিরাকে বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বর্তমান নীতি হচ্ছে ডলারের বিপরীতে রিয়ালের নির্দিষ্ট বিনিময় হার বেঁধে না দেওয়া। বরং বাজারের চাহিদা ও সরবরাহের ভিত্তিতে হার নির্ধারণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

এসলামির ভাষ্য, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই নীতির প্রতি সরকারি সমর্থন বেড়েছে। তার মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুক্তবাজারে আরও বেশি ডলার সরবরাহ করে বিনিময় হারকে বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার চেষ্টা করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও সমুদ্র অবরোধের কারণে ইরানের রিয়ালের ওপর চাপ বেড়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্যও সংকুচিত হয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এর আগে জানিয়েছিলেন, নিষেধাজ্ঞা ও নৌ-অবরোধের কারণে দেশটির আমদানি-রপ্তানি প্রায় ৩৫ শতাংশ কমেছে।

ইরানের তেল রপ্তানিতেও বড় ধাক্কা লেগেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের কারণে দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর দিয়ে অধিকাংশ ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রা আয় কমেছে এবং রিয়ালের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বিকল্প বাণিজ্যপথ ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে তেহরান। এসলামি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সাত হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ স্থলসীমান্ত রয়েছে। ফলে সমুদ্রপথ সীমিত হলেও স্থলপথ ব্যবহার করে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তার মতে, এ কারণেই তুরস্কের মতো প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে লেনদেন বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে রেলপথে আমদানি-রপ্তানি সম্প্রসারণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

চীন দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার। বিশেষ করে ইরানের তেলের বড় অংশের ক্রেতা দেশটি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে চীনে ইরানি তেল রপ্তানিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, স্থল ও রেলপথের ব্যবহার বাড়িয়ে ইরান নিষেধাজ্ঞা ও সমুদ্র অবরোধের প্রভাব কিছুটা কমানোর চেষ্টা করতে পারে। তবে এসব বিকল্প ব্যবস্থা দেশটির অর্থনৈতিক ক্ষতি পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।