সৌদি আরবের মদিনা অঞ্চলের প্রতিটি মসজিদে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য নারীদের নির্দিষ্ট কক্ষ বা মুসল্লা খোলা রাখার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দেশটির ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রী ড. আবদুল লতিফ আল আলশেখ এই ঐতিহাসিক অনুমোদন দিয়েছেন।
ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স, দাওয়াহ অ্যান্ড গাইডেন্স মন্ত্রী শেখ ড. আবদুল লতিফ বিন আবদুল আজিজ আল আলশেখ মদিনার সব মসজিদ এবং জামে মসজিদে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত ওয়াক্তের জন্য নারীদের প্রার্থনা কক্ষগুলো উন্মুক্ত রাখার এই সিদ্ধান্ত নেন।
এর আগে, মদিনার বহু স্থানীয় বা পাড়া-মহল্লার মসজিদে নারীদের জন্য নির্ধারিত অংশ কেবল শুক্রবার, তারাবিহ, ঈদ বা বিশেষ ব্যস্ত মৌসুমগুলোতেই খোলা হতো এবং বাকি সময় তা বন্ধ থাকত। নতুন এই অনুমোদনের ফলে এখন থেকে প্রতিটি ওয়াক্তের ফরজ নামাজের সময়ই এই বিভাগগুলো খোলা থাকবে। এর ফলে কোনো নারী মদিনায় কেনাকাটা, চাকরি, ভ্রমণ বা বেড়াতে গেলে সময়মতো ঘরে না ফিরে যেকোনো মসজিদেই ওয়াক্তিয়া নামাজ আদায় করতে পারবেন।
ইসলামিক ইনফর্মেশন-এর তথ্যমতে, এই সিদ্ধান্তটি সাধারণ পাড়ার মসজিদ এবং বড় বড় জামে মসজিদ উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তবে মসজিদে নববীতে ইতোমধ্যেই নারীদের জন্য সার্বক্ষণিক বিশাল প্রার্থনা এলাকা চালু রয়েছে এবং এই পরিবর্তনের ফলে সেখানে কোনো প্রভাব পড়বে না।
ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স, দাওয়াহ অ্যান্ড গাইডেন্স মন্ত্রণালয়ের মদিনা অঞ্চলের শাখা এবং শাখাটির মহাপরিচালক শেখ ওসামা বিন জায়েদ আল-মাদখালির তত্ত্বাবধানে এই অনুমোদন কার্যকর করা হয়েছে। এর আগে, এই শাখাটি মসজিদের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে বিভিন্ন বিবৃতি প্রকাশ করেছিল।
নারীদের প্রার্থনা কক্ষগুলো দেখভালের জন্য ইতিমধ্যে নারী মাঠকর্মীদের নিয়োজিত করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ঐতিহাসিক মসজিদগুলোর নারী সেকশনে নজরদারি ও নিরাপত্তার দায়িত্বে ১১৫ জন নারীকে মসজিদ মনিটর ও গার্ড হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই ঐতিহাসিক মসজিদগুলোর মধ্যে রয়েছে—সায়্যিদ আশ-শুহাদা, কিবলাতাইন, খান্দাক, গামামা, মুস্তারা এবং জুমা মসজিদ।


