...|...|...

অর্থনীতি

মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা আজ, আসতে পারে নতুন ঘোষণা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ৮:১৪ | আপডেট: ৪ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ৮:৫৫
Shares
মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা আজ, আসতে পারে নতুন ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

শ্রমিক অসন্তোষ, মজুরি বৃদ্ধির দাবি এবং একের পর এক কারখানা বন্ধের ঘটনায় দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে গঠিত মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ বুধবার (৪ নভেম্বর)। দীর্ঘদিনের মজুরি-সংক্রান্ত অসন্তোষ নিরসনে বোর্ডের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। তবে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তার বাস্তবায়নই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

বিজিএমইএ, ট্রেড ইউনিয়ন নেতা ও সরকারি কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ডের প্রথম সভার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। সভায় শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি, মালিকপক্ষের আর্থিক সক্ষমতা এবং পোশাকশিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

এর আগে গত রবিবার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। একই দিন এ বিষয়ে দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

মূলত শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের মজুরি বৃদ্ধির দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই এ বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। তবে শ্রমিকদের দাবি, এ মজুরি বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে। তাদের মতে, দ্রব্যমূল্য, বাসাভাড়া, যাতায়াত ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লেও বর্তমান মজুরি দিয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণে জীবনযাত্রার ব্যয়কে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা এলেও শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রমিক অসন্তোষ পুরোপুরি কমেনি। গত কয়েক দিন ধরে ঢাকা, মিরপুর, সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ এবং পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

বিজিএমইএর ১ নভেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে দেশের পাঁচটি শিল্পাঞ্চলের ৫২৯টি কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হয়। ওই দিন প্রায় ৯ লাখ ৮৭ হাজার শ্রমিক কর্মস্থল ছেড়ে বেরিয়ে যান। ৪ নভেম্বরও বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও কারখানা বন্ধ থাকার খবর পাওয়া গেছে। এতে শিল্পের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে মালিকপক্ষের মধ্যে।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যত দ্রুত সম্ভব মজুরি বোর্ডের সভা আয়োজনের আহ্বান জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে তারা অত্যন্ত আশাবাদী।

তিনি আরও বলেন, কারখানাগুলো চালু রাখার চেষ্টা চলছে। শিল্প ও শ্রমিকদের স্বার্থে ভাঙচুর ও বিক্ষোভ থেকে বিরত থাকতে শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।