বিশ্বজুড়ে স্বর্ণের চাহিদা পৌঁছেছে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে স্বর্ণের মোট চাহিদা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮৮১ টন। একই সময়ে স্বর্ণের বাজারমূল্য অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে পৌঁছেছে ৫৬৬ বিলিয়ন ডলারে।
ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের (ডব্লিউজিসি) বরাতে বার্তা সংস্থা আনাদোলু এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
ডব্লিউজিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে বিশ্বজুড়ে স্বর্ণের চাহিদা ছিল ১ হাজার ৩৬৯ টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ শতাংশ কম।
তবে এ সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার প্রবণতা বেড়েছে। তৃতীয় প্রান্তিকে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো মোট ৩২১ টন স্বর্ণ কিনেছে। আর বছরের প্রথম নয় মাসে তাদের মোট কেনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৭৫ টনে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি।
এদিকে, তৃতীয় প্রান্তিকে স্বর্ণভিত্তিক এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ডে (ইটিএফ) ২১১ টন স্বর্ণ যুক্ত হয়েছে। এর আগে দ্বিতীয় প্রান্তিকে এ খাত থেকে স্বর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছিল। অন্যদিকে, স্বর্ণের বার ও কয়েন কেনার পরিমাণ ১৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২৬৮ টনে।
উচ্চ দামের প্রভাব পড়েছে স্বর্ণের গয়নার চাহিদায়ও। তৃতীয় প্রান্তিকে বিশ্বজুড়ে গয়না খাতে স্বর্ণের চাহিদা ১৭ শতাংশ কমে ৩১৩ টনে নেমেছে, যা এ প্রান্তিকের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। তবে চাহিদা কমলেও গয়নার বাজারমূল্য ২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩ বিলিয়ন ডলারে।
দেশভিত্তিক হিসাবে, তৃতীয় প্রান্তিকে ভারতে স্বর্ণের গয়নার চাহিদা ২০ শতাংশ কমে ১০০ টনে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ শতাংশ কমে ২১ টন, ইউরোপে ১১ শতাংশ কমে ১১ টন এবং তুরস্কে ৪ শতাংশ কমে ৭ টন হয়েছে।
প্রযুক্তি খাতে অবশ্য স্বর্ণের চাহিদা ৩ শতাংশ বেড়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন যন্ত্রাংশের উৎপাদন বাড়ায় এ খাতে স্বর্ণের ব্যবহারও বেড়েছে।
ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে স্বর্ণের বাজারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ চাহিদা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার পরিমাণ ২০২৫ সালের সমান বা তার বেশি হতে পারে।


