...|...|...

সারাদেশ

বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ, থমথমে গাজীপুর শিল্পাঞ্চল

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩ নভেম্বর ২০২৬, দুপুর ২:৪৫ | আপডেট: ৩ নভেম্বর ২০২৬, দুপুর ২:৪৮
Shares
বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ, থমথমে গাজীপুর শিল্পাঞ্চল

গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস এলাকায় শ্রমিকরা মহাসড়ক ছেড়ে গেলেও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে । ছবি: টাইমস টুডে

বেতন বাড়ানোর দাবিতে প্রায় সপ্তাহ খানেক যাবত চলা শ্রমিকদের বিক্ষোভ আজও থমকে গিয়েছিল গাজীপুর। তবে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া সতর্কতায় শ্রমিকরা মহাসড়ক ছেড়ে গিয়েছে। শ্রমিকরা মহাসড়ক ছেড়ে গেলেও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল ও গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস এলাকায় ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়েতে অবরোধ করে। দীর্ঘ সময় এক্সপ্রেসওয়েতে অবরোধ থাকায় দীর্ঘ যানজটের তৈরি হয়। পরে গাজীপুর মেট্টোপলিটন পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন্স) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন নেতৃত্বে পুলিশ-বিজিবি ঘটনাস্থলে গিয়ে সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়ে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দিগন্ত সোয়েটার কারখানার সামনে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে শ্রমিকা। মহাসড়কের পাশে ফেলা বর্জ্য মহাসড়কের এনে সেখানে আগুন ধরিয়ে দেয় শ্রমিকরা। এসময় জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে নাওজোড় মোড় এলাকার সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। যেকোন সকল ধরনের যানবাহন অটোরিকশা, মোটরসাইকেল চলাচলেও বাধা দিয়ে মহাসড়কে ক্রিকেট খেলছিল তারা।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৮টার কিছু সময় আগে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের মৌচাক এলাকায় কয়েকজন শ্রমিক ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করে। তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কোন ধরনের সংঘাত ছাড়াই তাদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেয় বলে জানিয়েছিলেন গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন। একই সময় গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ মোড়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করে। পরে পুলিশ ও বিজিবি'র সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের সরিয়ে নেয়।

গাজীপুর মেট্টোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন্স) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, সকাল থেকেই মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে গিয়েছি, নাওজোড়ে গেলাম গার্মেন্টস্ কর্মীরা ছিল। তাদের সাথে কথা বললাম, কথা বলার পর সবাই চলে গেছে। স্বাভাবিক ভাবে তাদের দাবি দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করতেই পারে। বিভিন্ন সময় গার্মেন্টস কর্মীর আন্দোলন করেছে, আমরা আন্দোলনের বিভিন্ন প্যাটার্ন জানি। তবে এবারের প্যাটার্ন টা একটু ভিন্ন। এখানে যাওয়ার পর সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে গেল। সম্পূর্ণ ভালো আলোচনার মধ্যে হঠাৎ ঢিলছোড়া শুরু হল। কেউ এটাকে উপলক্ষ করে একটা ইস্যু বানাতে চাচ্ছে। নাওজোড় ও ভোগড়া বাইপাস এলাকায় ব্যারিকেড ছিল তা সরিয়ে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক আছে।