ফুটবল বিশ্বে রূপকথার জন্ম দিয়ে বয়সকে কেবল একটি সংখ্যায় পরিণত করেছেন কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিনিয়া। সম্প্রতি দেশটির এই তারকা গোলকিপারকে চিলির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব কোলো-কোলো উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে চিলির মাটিতে পা রাখার পর আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর ও মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমে ক্লাবটি তার যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, ভক্তদের মাঝে তাকে ঘিরে উন্মাদনার ঢেউ এখন তুঙ্গে।
৪০ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ গোলকিপারের সঙ্গে কোলো-কোলো ক্লাবের প্রাথমিক চুক্তি হয়েছে ছয় মাসের জন্য। তবে শর্ত রয়েছে, পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে এই চুক্তির মেয়াদ পরবর্তীতে আরও এক বছর বাড়ানোর সুযোগ থাকবে।
নতুন ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর তার নাম নিয়ে কিছুটা আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তার আসল নাম জজিমার জোজে এভোদা দিয়াস। চিলির প্রচলিত ফুটবল নিয়ম অনুযায়ী সাধারণত জার্সির পেছনে ডাকনাম ব্যবহারের অনুমতি থাকে না। তবে বিশেষ অনুরোধ এবং সব পক্ষের সম্মতিতে শেষ পর্যন্ত তার জনপ্রিয় ডাকনাম ‘ভোজিনিয়া’ নিয়েই মাঠে নামার অনুমতি মিলেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১৬ অগাস্ট নতুন এই দলের জার্সিতে তার অভিষেক হতে পারে।
পর্তুগিজ ভাষায় ‘ভোজিনিয়া’ শব্দের অর্থ ছোট্ট দাদি। এই নামের পেছনে রয়েছে শৈশবের এক আবেগঘন স্মৃতি। ছোটবেলায় রাস্তায় ফুটবল খেলে হেরে গিয়ে প্রায়ই কেঁদে বাড়ি ফিরতেন তিনি এবং দাদা-দাদির কাছে আশ্রয় নিতেন। দাদা-দাদির সঙ্গে তার সেই বিশেষ সম্পর্কের কারণে খেলার সঙ্গীরা ভালোবেসে তাকে এই নামে ডাকতে শুরু করেন। সময়ের পরিক্রমায় সেই নামই আজ তাকে বিশ্বজোড়া খ্যাতি এনে দিয়েছে।
গত জুনে পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব শেভাসে নিজের চুক্তির মেয়াদ শেষ করেন ভোজিনিয়া। সেই চুক্তি নবায়ন না করায় ক্লাবহীন অবস্থাতেই কেপ ভার্ডের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে যোগ দেন তিনি। মাস দুয়েক আগেও বিশ্ব ফুটবলের কাছে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ অপরিচিত এক মুখ।
তবে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে নেমেই সব আলো কেড়ে নেন তিনি। আসরের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী স্পেনের বিপক্ষে তার অবিশ্বাস্য গোলকিপিং নৈপুণ্যে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে কেপ ভার্ড। রাতারাতি বিশ্ব ফুটবলের সেনসেশনে পরিণত হন তিনি। স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ইনস্টাগ্রামে তার ফলোয়ার সংখ্যা ৫০ হাজারের কাছাকাছি থাকলেও, সেই ম্যাচের পর তা লাফিয়ে ১ কোটি ৭৪ লাখে পৌঁছে যায়। বর্তমানে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় তিন কোটির কাছাকাছি।
স্পেনের পর উরুগুয়ে এবং সৌদি আরবের বিপক্ষ থেকেও ড্র ছিনিয়ে নিয়ে গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে ইতিহাস গড়ে বিশ্বকাপে অভিষিক্ত ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। নকআউট পর্বে ঐতিহ্যবাহী শক্তি আর্জেন্টিনাকে প্রায় হারিয়েই দিয়েছিল তারা। শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের ব্যবধানে হেরে বিদায় নিলেও পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ পারফরম্যান্স উপহার দেন ভোজিনিয়া। কেবল চার ম্যাচ খেলে অবিশ্বাস্য নৈপুণ্য দেখিয়ে তিনি জায়গা করে নেন বিশ্বকাপের অফিসিয়াল সেরা একাদশে।
২০০৭ সালে পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু করার পর দীর্ঘ পথ চলায় অ্যাঙ্গোলা, সাইপ্রাস, মলদোভা, স্লোভাকিয়া ও পর্তুগালের বিভিন্ন ক্লাবে খেলেছেন ভোজিনিয়া। ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে এসে বিশ্বকাপে পাওয়া সেই অবিশ্বাস্য সাফল্য তাকে এনে দিয়েছে নতুন ঠিকানায় খেলার দারুণ সুযোগ। চিলির ফুটবলে এখন কেবল তার অভিষেক এবং নতুন রূপকথার শুরু দেখার অপেক্ষা।


