...|...|...

জাতীয়

ভোগান্তি এড়াতে ধউর-আশুলিয়া সেতু উন্মুক্ত, লাগবে না টোল

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:২৪ | আপডেট: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:৫০
Shares
ভোগান্তি এড়াতে ধউর-আশুলিয়া সেতু উন্মুক্ত, লাগবে না টোল

ধউর-আশুলিয়া সেতু উন্মুক্ত। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ চলার সময় যানবাহনের ভোগান্তি কমাতে ধউর-আশুলিয়া এলাকায় চালু করা হয়েছে দুটি সার্ভিস সেতু। ৩ দশমিক ৩১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সেতু দুটি বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। সেতু দুটিতে কোনো টোল দিতে হবে না। সাধারণ যানবাহনের পাশাপাশি পথচারীরাও এসব সেতু ব্যবহার করতে পারবেন।

সেতু দুটির উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। মূল এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ চলাকালে সাভার, আশুলিয়া ও ঢাকার মধ্যে চলাচলকারী মানুষের যানজট ও ভোগান্তি কমাতে বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা হিসেবে এগুলো নির্মাণ করা হয়েছে।

তবে সেতু দুটিতে যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে উচ্চতার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। নিরাপদ চলাচলের স্বার্থে নির্দিষ্ট তিন ধরনের উচ্চতা সীমা রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সীমার বেশি উচ্চতার কোনো যানবাহন সেতুতে উঠতে পারবে না।

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা ইপিজেড থেকে আশুলিয়া হয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে কাওলায় ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সাথে সরাসরি সংযোগ তৈরি হবে। এর ফলে বিমানবন্দর থেকে কুড়িল, বনানী ও তেজগাঁও হয়ে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী পর্যন্ত প্রায় ৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি নিরবচ্ছিন্ন উড়াল সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে।

প্রকল্পের আওতায় শুধু মূল এক্সপ্রেসওয়ে নয়, সাভার ও বাইপাইল এলাকার যানজট কমাতেও বেশ কিছু অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে বাইপাইল মোড়ে একটি মাল্টি-লেভেল ইন্টারচেঞ্জ, বিমানবন্দরে প্রবেশের জন্য বিশেষ র‍্যাম্প এবং মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-১ স্টেশনে যাতায়াতের জন্য পৃথক সংযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশ ও চীন সরকারের যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭ হাজার ৪৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি ৬৬ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৫৬ দশমিক ০২ শতাংশ। ২০১৭ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটির কাজ ২০৩০ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ চলছে। সরকার আশা করছে, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রায় শূন্য দশমিক ২১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

নতুন সার্ভিস সেতু দুটির মাধ্যমে আপাতত ধউর-আশুলিয়া করিডরে চলাচলকারী মানুষ বিকল্প যোগাযোগের সুযোগ পেলেও প্রকল্পটি পুরোপুরি শেষ হলে রাজধানী ও আশপাশের এলাকার সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।