...|...|...

ঢাকা

ভেনিসে বাঁধনের ওপর হামলা, আত্মগোপনে অভিযুক্তের পরিবার

মাদারীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:২৬
Shares
ভেনিসে বাঁধনের ওপর হামলা, আত্মগোপনে অভিযুক্তের পরিবার

ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত মনিরুল হাওলাদারের পরিবারের সদস্যরা মাদারীপুর সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের গ্রামের বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর হামলার আশঙ্কায় তারা আত্মগোপনে গেছেন বলে ধারণা করছেন এলাকাবাসী।

তবে বিদেশের মাটিতে এমন ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে মনিরুলের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সাথে ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, সে জন্য তার ক্ষমা চাওয়ারও দাবি তাদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মনিরুল হাওলাদার নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ধুরাইল ইউনিয়ন শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, দেড় বছর আগে প্রায় ২৮ লাখ টাকা দিয়ে দালালের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে ইতালিতে পাড়ি জমান মনিরুল হাওলাদার। তিনি মাদারীপুর সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের খালাসীকান্দি এলাকার মৃত শাজাহান হাওলাদারের কনিষ্ঠ পুত্র।

এলাকায় অবস্থানকালে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, তিনি সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান ও তার ছেলে সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আসিবুর রহমান খানের ঘনিষ্ঠ ছিলেন।

বর্তমানে গ্রামের বাড়িতে তার মা আলেয়া বেগম ও বড় ভাইয়ের পরিবার বসবাস করতেন। তার তিন বোনের বিয়ে হয়ে গেছে।

দোচালা জরাজীর্ণ একটি বাড়িতে মা ও ভাইয়ের সংসার ছিল। স্থানীয়দের ভাষ্য, ইতালিতে যাওয়ার জন্য নেওয়া ঋণের টাকা এখনো শোধ করতে পারেননি মনিরুল।

ইতালির ভেনিস শহরে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর বৃদ্ধা মা, বড় ভাইসহ পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ ঘটনায় এলাকাবাসী মনিরুলের বিচার দাবি করেছেন। একই সাথে ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে, সে জন্য তার প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ারও দাবি জানান তারা।

মনিরুলের সৎভাই ওবায়দুল হাওলাদার বলেন, এখনো বাড়ী-ঘর করতে পারে নাই। ঋণের বোঝা মাথার উপরে। টাকা পয়সা কামানো বাদ দিয়ে দল করা শুরু করেছে। আমি সৎভাই, এক পয়সাও আমাকে দেয় না। বিদেশে বসে এদেশের মান-সম্মান সব শেষ করে দিয়ে। ওর বিচার করুক, আমরা ওর সাথে নাই। এমন লোক থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো। আমি ওদের সাথে নেই। ওর মা বোন ভাই সবাই পালাইছে।

এদিকে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

এ বিষয়ে সদর থানার ওসি আবুল কামাল আজাদ বলেন, ঘটনাটি জানার পরেই মনিরুলের বাড়ীতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কেউ যেন বাড়ী-ঘরে হামলা করতে না পারে সে ব্যাপারে পুলিশ সর্তক রয়েছে। ওখানের ইউপি চেয়ারম্যানকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে, তিনি সব ধরণের সহযোগিতাও করছে।