ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যুবসমাজ, প্রযুক্তি, শিক্ষা, ক্রীড়া এবং শক্তি খাতকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু বড় উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে এক কোটি তরুণের জন্য দেশব্যাপী এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) স্কিলিং প্রোগ্রাম, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য ফ্রি অনলাইন কোচিং এবং শিশু ও কিশোরদের জন্য ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ অন্যতম।
শনিবার (১৫ আগস্ট) ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দিল্লির লালকেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে মোদি এসব ঘোষণা দেন। ঘোষণাগুলো হলো:
১. কোটি তরুণের জন্য এআই স্কিল ট্রেনিং
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত এআই সামিটের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দেশের যুবকদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দক্ষতা বাড়ানোর একটি বড় উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের এক কোটি তরুণকে এআই দক্ষতা প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে তারা এই ক্ষেত্রে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে পারে।
২. প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য ফ্রি অনলাইন কোচিং
অভিভাবকদের আর্থিক চাপ কমাতে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য ফ্রি অনলাইন কোচিং চালুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোচিং ক্লাসের খরচ গরিব ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করে। ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও শিক্ষকদের সমন্বয় ঘটিয়ে দেশের যুবকদের জন্য এ বিশেষ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে বলে জানান তিনি।
৩. সিভিল ডিফেন্স সংস্কার
আধুনিক প্রশিক্ষণ ও উন্নত সক্ষমতার মাধ্যমে জরুরি ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার সিভিল ডিফেন্স ব্যবস্থার সংস্কার করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। আধুনিক সংকট থেকে নাগরিকদের সুরক্ষায় একটি শক্তিশালী ও আধুনিক সিভিল ডিফেন্স ভলান্টিয়ার ফোর্স গড়ে তোলার ঘোষণা দেওয়া হয়।
৪. শিশুদের জন্য দেশব্যাপী ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ
অলিম্পিক গেমসে ভারতের উপস্থিতি বাড়াতে এবং ২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজনের জোরালো দাবিদার হিসেবে কাজ করছে দেশটি। ক্রীড়ার পরিধি বাড়াতে ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের জন্য একটি দেশব্যাপী প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি চালু করা হবে, যার মাধ্যমে নির্বাচিত শিশুরা বিশ্বমানের অ্যাথলেট হয়ে ওঠার বিশেষ প্রশিক্ষণ পাবে।
৫. সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে জোর
ডিজিটাল অর্থনীতিতে চিপ বা সেমিকন্ডাক্টরের গুরুত্ব তুলে ধরে মোদি জানান, ভারত এই খাতে আত্মনির্ভরতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে তিনটি বড় সেমিকন্ডাক্টর প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে এবং আগামী ৭-৮ বছরের মধ্যে আরও ৫ থেকে ৮টি প্ল্যান্ট উৎপাদনে যাওয়ার কথা রয়েছে।
৬. পারমাণবিক শক্তি সম্প্রসারণ পরিকল্পনা
দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারমাণবিক শক্তির ওপর জোর দিয়ে ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করা হয়েছে। চলতি দশকেই পাঁচটি নতুন পারমাণবিক চুল্লি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির।
সূত্র: এনডিটিভি

