ব্যালন ডি’অর কার হাতে উঠবে, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা। আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার আগেই একটি ভোটাভুটিতে এগিয়ে রয়েছেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। তার পেছনে আছেন বায়ার্ন মিউনিখের হ্যারি কেইন ও রিয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে তালিকায় সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিতে পারেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়েও ব্যালন ডি’অরের আলোচনায় থাকা আটবারের এই বিজয়ী রয়েছেন চতুর্থ স্থানে।
গোল ডটকমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরব বিশ্বের জনপ্রিয় ক্রীড়াবিষয়ক ওয়েবসাইট কুয়োরার ১৫ সম্পাদকের ভোটে ১৯৫ পয়েন্ট পেয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছেন ইয়ামাল। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বায়ার্ন মিউনিখের স্ট্রাইকার কেইনের ঝুলিতে জমা হয়েছে ১৬২ পয়েন্ট। আর ১১৬ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড এমবাপ্পে।
ইয়ামালের শীর্ষে থাকার পেছনে বড় অবদান রেখেছে প্রথম পছন্দ হিসেবে পাওয়া ভোট। ১৫ সম্পাদকের মধ্যে সাতজনই তাকে তালিকার প্রথম স্থানে রেখেছেন। পাশাপাশি দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানের ভোট থেকেও পয়েন্ট পেয়েছেন বার্সেলোনার এই তরুণ উইঙ্গার। সব মিলিয়ে অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের ছাড়িয়ে গেছেন তিনি।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় স্থানের ভোটে সবচেয়ে বেশি সমর্থন পেয়েছেন কেইন। এতে তার পয়েন্টের ঝুলি সমৃদ্ধ হলেও ইয়ামালের সাথে ব্যবধান ঘোচানো সম্ভব হয়নি। ১৬২ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে ইংল্যান্ডের এই অধিনায়ককে। ১১৬ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন এমবাপ্পে।
তালিকার চতুর্থ অবস্থানে জায়গা পেয়েছেন মেসি। ৪৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষ তিনের বাইরে থাকলেও ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কারের আলোচনায় তার উপস্থিতি নজর কেড়েছে। পঞ্চম স্থানে থাকা খভিচা কাভারাৎসখিয়ার পয়েন্ট ২২। ১৫ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ অবস্থানে আছেন ফাবিয়ান রুইজ।
কুয়োরার এই ভোটের পদ্ধতিতে প্রত্যেক সম্পাদক তিনজন খেলোয়াড়কে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পছন্দ হিসেবে নির্বাচন করেছেন। প্রথম স্থানে রাখা খেলোয়াড়ের জন্য বরাদ্দ ছিল ১৫ পয়েন্ট, দ্বিতীয় স্থানের জন্য ১২ এবং তৃতীয় স্থানের জন্য ১০ পয়েন্ট। প্রতিটি অবস্থানে পাওয়া পয়েন্ট যোগ করে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
ফ্রান্স ফুটবল সাময়িকীর আয়োজনে দেওয়া ব্যালন ডি’অর ফুটবল বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার। এই সম্মাননার বিজয়ী নির্ধারণে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, দলের সাফল্যে অবদান এবং সামগ্রিক অর্জন বিবেচনা করা হয়।
তবে কুয়োরার এই ভোটাভুটি ব্যালন ডি’অরের আনুষ্ঠানিক ভোট নয়। এতে অংশ নেওয়া সম্পাদকদের ব্যক্তিগত পছন্দই প্রতিফলিত হয়েছে, যা মূল পুরস্কারের ফল নির্ধারণে কোনো প্রভাব ফেলবে না। তাই এই তালিকায় ইয়ামাল এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত ব্যালন ডি’অর কার হাতে উঠবে, তা নিশ্চিত হতে আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।



