...|...|...

খেলা

পেলে-ম্যারাডোনা কেন কখনো জেতেননি ব্যালন ডি’অর

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১০:৪৬
Shares
পেলে-ম্যারাডোনা কেন কখনো জেতেননি ব্যালন ডি’অর

দিয়েগো ম্যারাডোনা ও পেলে। ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়দের তালিকায় পেলে ও দিয়েগো ম্যারাডোনার নাম অবধারিতভাবেই আসে। পেলের হাত ধরে তিনবার বিশ্বকাপ জিতেছে ব্রাজিল, আর ম্যারাডোনার নেতৃত্বে ১৯৮৬ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা। এত বড় অর্জন ও অসাধারণ ব্যক্তিগত নৈপুণ্য সত্ত্বেও নিয়মিত প্রতিযোগিতায় ব্যালন ডি’অর জেতা হয়নি তাদের। এর কারণ পারফরম্যান্সের ঘাটতি নয়, বরং পুরস্কারটির পুরোনো নিয়ম, যা দীর্ঘদিন ইউরোপের বাইরের ফুটবলারদের জন্য দরজা বন্ধ রেখেছিল।

ফরাসি সাময়িকী ফ্রান্স ফুটবল ১৯৫৬ সালে ব্যালন ডি’অর পুরস্কার চালু করে। তবে শুরুর দিকে বিশ্বের সব দেশের ফুটবলার এই সম্মাননার জন্য বিবেচিত হতেন না। কেবল ইউরোপীয় নাগরিকত্ব থাকা খেলোয়াড়দেরই পুরস্কারটির জন্য মনোনীত করার সুযোগ ছিল। ফলে দক্ষিণ আমেরিকার দুই কিংবদন্তি পেলে ও ম্যারাডোনা নিজেদের সেরা সময়েও এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেননি।

পেলের পেশাদার ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য সময় কেটেছে ব্রাজিলের ক্লাব সান্তোসে। জাতীয় দলের হয়ে তিনটি বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলেও অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেন তিনি। কিন্তু তৎকালীন নিয়মে ইউরোপের বাইরে খেলা এবং ইউরোপীয় নাগরিকত্ব না থাকার কারণে ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে তার অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল না।

ম্যারাডোনার ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি ছিল একই রকম। বার্সেলোনা ও নাপোলির মতো ইউরোপের নামী ক্লাবে খেললেও আর্জেন্টাইন নাগরিকত্বের কারণে তিনি পুরস্কারটির জন্য যোগ্য বিবেচিত হননি। অথচ ১৯৮৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতানোর পথে তার অসাধারণ পারফরম্যান্স ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে আছে।

ব্যালন ডি’অরের নিয়মে প্রথম বড় পরিবর্তন আসে ১৯৯৫ সালে। ওই বছর থেকে ইউরোপের ক্লাবে খেলা যেকোনো দেশের ফুটবলার পুরস্কারটির জন্য বিবেচিত হওয়ার সুযোগ পান। নতুন নিয়মে প্রথম অ-ইউরোপীয় বিজয়ী হন লাইবেরিয়ার স্ট্রাইকার জর্জ উইয়াহ।

এরপর ২০০৭ সালে পুরস্কারটির নিয়ম আরও সম্প্রসারিত হয়। বিশ্বের যেকোনো দেশের এবং যেকোনো লিগে খেলা ফুটবলারদের জন্য উন্মুক্ত করা হয় ব্যালন ডি’অর। কিন্তু তত দিনে পেলে ও ম্যারাডোনার খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হয়ে গেছে। ফলে নিয়মের পরিবর্তন তাদের প্রতিযোগিতামূলকভাবে এই পুরস্কার জয়ের সুযোগ ফিরিয়ে দিতে পারেনি।

তবে ফুটবলে তাদের অবদানের স্বীকৃতি একেবারে অনুপস্থিত ছিল না। ১৯৯৫ সালে ম্যারাডোনাকে সম্মানসূচক ব্যালন ডি’অর দেওয়া হয়। পরে ২০১৩ সালে পেলের হাতে তুলে দেওয়া হয় সম্মানসূচক ফিফা ব্যালন ডি’অর। অবশ্য এই সম্মাননাগুলো নিয়মিত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অর্জিত ব্যালন ডি’অরের থেকে আলাদা।

আধুনিক ফুটবলে ব্যালন ডি’অর জয়ের আলোচনায় লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। মেসি আটবার এবং রোনালদো পাঁচবার এই পুরস্কার জিতেছেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের দিক থেকে তাদের অর্জন ফুটবল ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।

পেলে ও ম্যারাডোনার ক্ষেত্রে ব্যালন ডি’অরের হিসাব তাই কিছুটা ভিন্ন। তারা পুরস্কারটি জিততে পারেননি নিজেদের সামর্থ্যের অভাবে নয় বরং এমন এক সময়ে খেলেছেন, যখন পুরস্কারের নিয়মই তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত করে রেখেছিল। তাই ব্যালন ডি’অরের বিজয়ীদের তালিকায় তাদের নাম না থাকলেও ফুটবল ইতিহাসে তাদের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ নেই।