বগুড়ার শেরপুরে গাছ কেটে পাখির বাসা, ডিম ও ছানা নষ্ট করার অভিযোগে করা মামলায় আজাহার আলী (৬৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে শেরপুর উপজেলার রামনগর গ্রামে আজাহার আলীর বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি বাড়ির দেয়াল টপকে পাশের জঙ্গলে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, রামনগর গ্রামে নিজের জমিতে থাকা সাতটি জলপাই ও পীতরাজগাছ কেটে ফেলেন আজাহার আলী। ওই গাছগুলোতে পরিযায়ী শামুকখোলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বাসা বেঁধেছিল। গাছ কাটার সময় বাসাগুলো নিচে পড়ে যায় এবং এতে পাখির ডিম ও ছানা নষ্ট হয়।
ঘটনার পর বন বিভাগের শেরপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সালাহ উদ্দিন পারভেজ বাদী হয়ে শেরপুর থানায় মামলা করেন। গত মঙ্গলবার রাতে দায়ের করা ওই মামলায় আজাহার আলীকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরপুর থানার উপপরিদর্শক শাহাদাত হোসেন জানান, তদন্তে গাছ কাটার মাধ্যমে পাখির বাসা, ডিম ও ছানা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।
স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন পরিবেশ প্রতিরক্ষা সংস্থার সভাপতি সোহাগ রায় জানান, রামনগর গ্রামের বিভিন্ন গাছে নিয়মিত পরিযায়ী শামুকখোলসহ নানা প্রজাতির পাখি আশ্রয় নেয়। এ কারণে এলাকাটি স্থানীয়দের কাছে ‘পাখি কলোনি’ হিসেবে পরিচিত।
তিনি আরও জানান, গত ৮ আগস্ট গাছ কাটার সময় পাখির বাসা নিচে পড়ে বহু ডিম নষ্ট হয় এবং ছানা মারা যায়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।


