ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু শিরোপা জয়ের মঞ্চই নয়, অনেক খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ার বদলে দেওয়ারও সবচেয়ে বড় সুযোগ। বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে অনেক ফুটবলার নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করে পেয়েছেন ইউরোপের বড় ক্লাবে খেলার সুযোগ।
সর্বশেষ কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার চিলির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব কোলো-কোলোতে যোগ দেওয়ার ঘটনা সেই তালিকায় নতুন সংযোজন।
সম্প্রতি ২০২৬ বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের হয়ে নজরকাড়া নৈপুণ্য দেখানোর পর ৪০ বছর বয়সী ভোজিনিয়া পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব শাভেস ছেড়ে চিলির কোলো-কোলোতে যোগ দিয়েছেন। তবে বিশ্বকাপে আলো ছড়িয়ে বড় ক্লাবে পাড়ি জমানোর ইতিহাস আরও অনেক
পুরোনো।
১৯৯৪ বিশ্বকাপ শেষে ক্যানন ইয়াউন্ডে ছেড়ে লাঁসে ফোয়ে
১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ক্যামেরুনের হয়ে দুর্দান্ত খেলেন মার্ক-ভিভিয়েন ফোয়ে। ব্রাজিলের বিপক্ষে তার পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে ফরাসি ক্লাব লাঁস তাকে ক্যানন ইয়াউন্ডে থেকে দলে ভেড়ায়। পরে তিনি ওয়েস্ট হ্যাম, ম্যানচেস্টার সিটি ও লিঁয়র হয়েও খেলেছেন।
২০০২ বিশ্বকাপ জিতে অ্যাটলেটিকো মিনেইরো থেকে আর্সেনালে গিলবার্তো সিলভা
দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে অনুষ্ঠিত ২০০২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন গিলবার্তো সিলভা। বিশ্বকাপ শেষে অ্যাটলেটিকো মিনেইরো থেকে প্রায় ৪.৫ মিলিয়ন পাউন্ডে তাকে দলে নেয় ইংলিশ ক্লাব আর্সেনাল। পরে 'ইনভিন্সিবলস' দলের অন্যতম সদস্য হন তিনি।
২০০৬ বিশ্বকাপের পর করিন্থিয়ান্স ছেড়ে ওয়েস্ট হ্যামে মাসচেরানো
জার্মানিতে অনুষ্ঠিত ২০০৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে দারুণ পারফরম্যান্স করেন হাভিয়ের মাসচেরানো। বিশ্বকাপ শেষে ব্রাজিলের করিন্থিয়ান্স ছেড়ে সতীর্থ কার্লোস তেভেজের সাথে ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেডে যোগ দেন। পরে লিভারপুল ও বার্সেলোনার জার্সিতেও সফল সময় কাটান।
২০১০ বিশ্বকাপ মাতিয়ে ভের্ডার ব্রেমেন থেকে রিয়াল মাদ্রিদে ওজিল
দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত ২০১০ বিশ্বকাপে চার গোল ও চার অ্যাসিস্ট করে আলোচনায় আসেন জার্মানির মেসুত ওজিল। তার পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ ভের্ডার ব্রেমেন থেকে তাকে দলে ভেড়ায়। পরে তিনি আর্সেনালেও যোগ দেন।
২০১৪ বিশ্বকাপের পর মোনাকো থেকে রিয়াল মাদ্রিদে হামেস
ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত ২০১৪ বিশ্বকাপে ছয় গোল করে গোল্ডেন বুট জেতেন কলম্বিয়ার হামেস রদ্রিগেজ। বিশ্বকাপ শেষে ফরাসি ক্লাব মোনাকো থেকে প্রায় ৭৫ মিলিয়ন ইউরোতে তাকে দলে নেয় রিয়াল মাদ্রিদ। সেখানে তিনি দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ একাধিক শিরোপা জেতেন।
২০২৬ বিশ্বকাপের পর শাভেস ছেড়ে কোলো-কোলোতে ভোজিনিয়া
২০২৬ বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। স্পেনের বিপক্ষে ক্লিন শিট ও নকআউট পর্বে দারুণ নৈপুণ্যের পর তিনি ফিফার টুর্নামেন্ট সেরা একাদশে জায়গা পান। এরপর পর্তুগালের শাভেস ছেড়ে চিলির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব কোলো-কোলোতে যোগ দেন।
আরও যারা বিশ্বকাপের পর বড় ক্লাবে যোগ দিয়েছেন
উল্লেখযোগ্য, বিশ্বকাপে উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের পর ঘিওর্গে হাজি (ব্রেসিয়া থেকে বার্সেলোনা), দেজান স্টানকোভিচ (রেড স্টার বেলগ্রেড থেকে লাজিও), কার্লোস সালসিদো (গুয়াদালাহারা থেকে পিএসভি আইন্দহোভেন), নিকোলাস ওতামেন্দি (ভেলেজ সার্সফিল্ড থেকে পোর্তো), এদিনসন কাভানি (পালের্মো থেকে নাপোলি), সামি খেদিরা (স্টুটগার্ট থেকে রিয়াল মাদ্রিদ), কেইলর নাভাস (লেভান্তে থেকে রিয়াল মাদ্রিদ), এনের ভ্যালেন্সিয়া (পাচুকা থেকে ওয়েস্ট হ্যাম) এবং এনজো ফার্নান্দেজ (বেনফিকা থেকে চেলসি) ।

