জ্বালানি তেল আমদানি ও সংশ্লিষ্ট ব্যয় মেটাতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে সরকার। বিপিসির চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে সংস্থাটি ওই অর্থ পেয়েছে।
বাসসকে বিপিসির চেয়ারম্যান বলেন, সরকার থেকে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ পাওয়া গেছে। এর আগে জ্বালানি তেল আমদানি ও অন্যান্য ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকারের কাছে ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণের আবেদন করেছিল বিপিসি।
বিপিসি সূত্রে জানা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে সংস্থাটির আর্থিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে এসব কারণে বিপিসিকে অতিরিক্ত প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়েছে।
বিপিসির চেয়ারম্যান এর আগে জানিয়েছিলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যের পাশাপাশি পরিবহন ও হ্যান্ডলিং খরচও বেড়েছে। একসময় প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের জন্য জাহাজ ভাড়া ৩ থেকে ৪ ডলারের মধ্যে থাকলেও তা বেড়ে ১৫ থেকে ১৭ ডলারে পৌঁছেছে। এতে জ্বালানি আমদানিতে সংস্থাটির মাসিক ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রভাব সামাল দিতে গত ২০ সেপ্টেম্বর দেশে ডিজেলসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়।
বিপিসির আর্থিক সংকটের পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের বাজারে সে অনুযায়ী দাম সমন্বয় না হওয়ার বিষয়টিও রয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে, চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত আমদানি করা জ্বালানির মূল্য পরিশোধ করতে গিয়ে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।
সরকারের দেওয়া নতুন ঋণের অর্থ জ্বালানি তেল আমদানির প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান দিতে বিপিসিকে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে জ্বালানি আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় ঋণপত্র খোলা এবং দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার সক্ষমতাও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।


