দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের জন্য সরকারের পরিকল্পনাহীনতা, সময়মতো জ্বালানি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত না নেওয়া এবং বেসরকারিকরণের নামে ব্যবসায়িক গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার নীতিকে দায়ী করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিপহুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি দাবি করেছেন, বর্তমান সংকট কোনো যুদ্ধের কারণে নয়, বরং ভুল নীতি ও সিদ্ধান্তহীনতার ফল।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাতে নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে নাহিদ ইসলাম এসব অভিযোগ করেন। একই সাথে তিনি দাবি করেন, বিএনপি সরকার নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গিয়ে ব্যবসায়িক গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার পথে হাঁটছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ খাতে আগের সরকারের কিছু নীতির সমালোচনা করলেও বর্তমান সরকার একই ধরনের পথে এগোচ্ছে। তার দাবি, বেসরকারিকরণের নামে জ্বালানি আমদানি ও বিদ্যুৎ বিতরণ খাতে বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, জ্বালানি তেল আমদানি ও মজুত ব্যবস্থাপনায় নতুন নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করা হয়েছে। তার ভাষ্য, অংশীজনদের মতামত নেওয়ার পরিবর্তে অল্প সময়ের মধ্যে নীতিমালার খসড়া তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমানে দেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় লোডশেডিং পরিস্থিতি চলছে। তার দাবি, ১০ আগস্ট রাতে লোডশেডিং ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াটে পৌঁছায় এবং বহু বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগও করেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে সংকটের একমাত্র কারণ হিসেবে দেখার বিরোধিতা করে তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরুর আগেই বিদ্যুৎ পরিস্থিতির অবনতি হয়েছিল। তার দাবি, এপ্রিল, জুলাই ও আগস্ট মাসের লোডশেডিংয়ের পরিসংখ্যান দেখলেই সংকটের ধারাবাহিকতা বোঝা যায়।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের কারণে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। এ ঘটনায় স্বাধীন তদন্তের দাবি জানান তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, জ্বালানি খাতে বেসরকারি নির্ভরতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনের দাম বাড়লে পরিবহন, কৃষি ও নিত্যপণ্যের বাজারে এর প্রভাব পড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধানে নাহিদ ইসলাম দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ, বেসরকারিকরণ প্রক্রিয়া স্থগিত, জ্বালানি আমদানির সময়সূচি ঠিক রাখা, গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রস্তাব দেন।
তিনি বলেন, জ্বালানি খাত জাতীয় নিরাপত্তার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই এ খাতে কোনো ভুল সিদ্ধান্তের প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে। সরকারের প্রধান দায়িত্ব জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


