...|...|...

খেলা

বিতর্কিত পেনাল্টি থেকে ট্রফি হারানো, এবার আদালতে সেনেগাল-মরক্কো লড়াই

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১০:০৭
Shares
বিতর্কিত পেনাল্টি থেকে ট্রফি হারানো, এবার আদালতে সেনেগাল-মরক্কো লড়াই

ছবি: সংগৃহীত

আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের (আফকন) ফাইনালে মরক্কোকে ১-০ গোলে হারিয়ে মাঠে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সেনেগাল। কিন্তু ম্যাচে মাঠ ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরবর্তী সময়ে আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিএএফ) সিদ্ধান্তে শিরোপা হারায় দলটি। ফাইনালের ফল পরিবর্তন করে মরক্কোকে ৩-০ গোলে জয়ী ঘোষণা করা হয়। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এবার আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে আইনি লড়াইয়ে নেমেছে সেনেগাল।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সুইজারল্যান্ডের লুজানে অবস্থিত ক্রীড়া সালিশি আদালতে (সিএএস) দুই দেশের শিরোপা বিতর্ক নিয়ে রুদ্ধদ্বার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিন বিচারকের প্যানেল উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনেছে। এখন চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে দুই দল। বার্তা সংস্থা এপি ও রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক দিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত জানাতে পারে আদালত।

পেনাল্টির সিদ্ধান্ত ঘিরেই যত বিতর্ক

১৮ জানুয়ারি মরক্কোর রাজধানী রাবাতে অনুষ্ঠিত হয় আফকনের ফাইনাল। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে সেনেগালের বিপক্ষে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন কঙ্গোর রেফারি জ্যঁ-জ্যাক এনদালা। এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে মাঠ ছেড়ে চলে যান সেনেগালের খেলোয়াড়েরা। এতে প্রায় ১৫ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে। গ্যালারিতেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সেনেগালের সমর্থকদের সাথে মরক্কোর পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।

খেলা পরিত্যক্ত হলে মরক্কোকে জয়ী ঘোষণার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারত। তবে সেনেগালের তারকা ফরোয়ার্ড সাদিও মানে সতীর্থদের মাঠে ফিরে খেলা শেষ করতে রাজি করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

খেলা পুনরায় শুরু হলে পেনাল্টি নেওয়ার সুযোগ পান মরক্কোর ব্রাহিম দিয়াজ। রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড ধীরগতির চিপ শটে গোল করার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেনেগালের গোলরক্ষক এদুয়া মেন্দি বলটি সহজেই আটকে দেন।

এরপর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে চতুর্থ মিনিটে সেনেগালের মিডফিল্ডার পাপে গেয়েরের জোরালো শটে গোল পায় দলটি। শেষ পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সেনেগাল।

সিএএফের সিদ্ধান্তে হাতছাড়া হয় শিরোপা

ফাইনালের পর দুই দলের খেলোয়াড়, সেনেগালের কোচ পাপে থিয়াও এবং সংশ্লিষ্ট ফুটবল ফেডারেশনগুলোর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ১০ লাখ ডলারের বেশি জরিমানা করে সিএএফের শৃঙ্খলাবিষয়ক বিচারক প্যানেল। ম্যাচের ১১ দিন পর এ সিদ্ধান্ত আসে। তবে সে সময় ফাইনালের ফল বাতিল করে মরক্কোকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণার আবেদন খারিজ করা হয়েছিল।

পরবর্তী সময়ে বিষয়টি সিএএফের আপিল বোর্ডে যায়। গত মার্চে বোর্ড মাঠ ছেড়ে যাওয়ার ঘটনাকে প্রতিযোগিতার নিয়ম লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করে। এরপর ফাইনালের ফল ১-০ থেকে পরিবর্তন করে মরক্কোর পক্ষে ৩-০ ঘোষণা করা হয়। এর মধ্য দিয়ে সেনেগালের কাছ থেকে শিরোপা নিয়ে মরক্কোকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়।

সিএএফের টুর্নামেন্ট বিধিতে বলা হয়েছে, রেফারির অনুমতি ছাড়া কোনো দল খেলা শেষ হওয়ার আগে মাঠ ছেড়ে চলে গেলে কিংবা খেলতে অস্বীকৃতি জানালে ওই দলকে পরাজিত ঘোষণা করা হবে এবং চলমান প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দেওয়া হবে। এই বিধির ভিত্তিতেই সেনেগালকে পরাজিত বিবেচনা করে মরক্কোকে শিরোপা দেওয়া হয়। তবে এই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি সেনেগাল।

শিরোপা ফিরে পেতে সেনেগালের আইনি লড়াই

সিএএফের সিদ্ধান্তের পর সেনেগাল সরকার জানায়, শিরোপা পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় সব আইনি পদক্ষেপ নিতে তারা দেশটির ফুটবল ফেডারেশনকে সহায়তা করবে। একই সাথে আফ্রিকান ফুটবলের প্রশাসনে দুর্নীতির সম্ভাবনা নিয়ে তদন্তেরও আহ্বান জানায় সরকার।

এই ঘটনা আফ্রিকান ফুটবলের প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছে। বিশেষ করে ২০৩০ বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক মরক্কোর সাথে সিএএফ ও ফিফার সম্পর্ক এবং প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে মরক্কোর প্রভাবসংক্রান্ত অভিযোগ এখনো প্রমাণিত সত্য নয়।

এদিকে, রাবাতের ফাইনাল ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনায় কারাবন্দী হওয়া সেনেগালের ১৮ সমর্থককে গত মে মাসে ক্ষমা করেন মরক্কোর রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ।

শুনানি শেষে কয়েক দিনের মধ্যে রায়

সিএএফের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশনের করা আপিলের শুনানি গতকাল সুইজারল্যান্ডের লুজানে অনুষ্ঠিত হয়। রুদ্ধদ্বার শুনানিতে তিন বিচারকের প্যানেল দুই পক্ষের বক্তব্য শোনে।

শুনানিতে সেনেগাল ও মরক্কোর ফুটবল ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন কি না, তা নিয়ে আগে অনিশ্চয়তা ছিল। একই সময়ে কেপ ভার্দেতে সিএএফের তিন দিনের ফুটবল সম্মেলন চলছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুনানি শেষে সিএএসের মহাপরিচালক ম্যাথিউ রিব জানান, আদালত দ্রুত সিদ্ধান্ত দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ‘শুনানির পরপরই কিংবা পরদিন রায় আসবে না। তবে কয়েক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করা হচ্ছে।’

আদালত সেনেগালের আপিল গ্রহণ করলে সিএএফের শিরোপাসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ তৈরি হবে। অন্যদিকে, মরক্কোর পক্ষে আগের সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে দেশটির চ্যাম্পিয়ন স্বীকৃতি বজায় থাকবে।

২০২৭ সালের জুনে কেনিয়া, তানজানিয়া ও উগান্ডার যৌথ আয়োজনে পরবর্তী আফকন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তার আগে এই মামলার রায় আফ্রিকান ফুটবলের শিরোপা বিতর্কের নিষ্পত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মাঠের লড়াই শেষ হলেও সেনেগাল ও মরক্কোর শিরোপা নিয়ে বিরোধ এখনো অমীমাংসিত। এবার সেই বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতের রায়ের।