পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন গভীর বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ লায়নফিশ (Lionfish)। লাল, সাদা ও মেরুন রঙের ডোরাকাটা শরীর, লম্বা পাখনা ও বিষাক্ত কাঁটার কারণে আকর্ষণীয় এ মাছ স্থানীয়ভাবে অনেকের কাছে ‘এরোপ্লেন মাছ’ নামেও পরিচিত।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে মহিপুর মৎস্য বন্দরে এফবি জাবের নামের একটি মাছ ধরার ট্রলারে মাছ দুটি আনা হলে তা দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। পরে মাছ দুটি মহিপুর মৎস্য বন্দরের মায়ের দোয়া ফিশ আড়তে তোলা হয়।
জানা গেছে, ট্রলারটির মাঝি আসাদ। গত পরশু কুয়াকাটা উপকূল থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে গভীর বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় অন্য মাছের সঙ্গে লায়নফিশ দুটি জালে উঠে আসে। প্রথমে জেলেরা মাছটির পরিচয় না জানলেও পরে এটি লায়নফিশ বলে নিশ্চিত হন।
স্থানীয় জেলে রহিম মিয়া বলেন, প্রথমে সাধারণ মাছ মনে হয়েছিল। পরে এর শরীরের লাল-সাদা ডোরাকাটা দাগ ও কাঁটার মতো পাখনা দেখে বুঝতে পারি এটি বিরল কোনো সামুদ্রিক মাছ।
মায়ের দোয়া ফিশ আড়তের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ সোহাগ জানান, এ ধরনের মাছ এ অঞ্চলে খুব কমই ধরা পড়ে। মাছ দুটি ব্যবসায়ী মো. ছগির আকনের কাছে বিক্রি করা হয়েছে।
মাছের ক্রেতা মো. ছগির আকন বলেন, মাছ দুটি দেখতে অত্যন্ত আকর্ষণীয় হওয়ায় সংরক্ষণ করে রেখেছি। এর আগেও মহিপুর বন্দরে এ ধরনের একটি লায়নফিশ পাওয়া গিয়েছিল। এবারও মাছ দুটি দেখতে অনেক মানুষ ভিড় করেছেন। অনেকে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন।
ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, লায়নফিশ দেখতে সুন্দর হলেও এর পাখনার কাঁটায় শক্তিশালী বিষ থাকে। অসাবধানতাবশত কাঁটার আঘাত লাগলে তীব্র ব্যথা, ফোলা, বমি, মাথা ঘোরা এবং কখনো শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই খালি হাতে এ মাছ ধরা বা স্পর্শ করা উচিত নয়।
তিনি আরও জানান, লায়নফিশ সাধারণত ভারত মহাসাগর, বঙ্গোপসাগর, প্রশান্ত মহাসাগর ও লোহিত সাগরের উষ্ণ উপকূলীয় অঞ্চলে বিচরণ করে। কোরাল রিফের আশপাশে এদের বেশি দেখা যায়। ছোট মাছ ও চিংড়ি এদের প্রধান খাদ্য।
কলাপাড়া উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, আমাদের উপকূলে লায়নফিশ সচরাচর দেখা যায় না। এ মাছের পাখনার কাঁটায় বিষ থাকলেও বিষাক্ত অংশ অপসারণের পর এর মাংস খাওয়া যায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে এটি খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে সমুদ্রে এটি ছোট মাছ খেয়ে বাস্তুতন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই জেলেদের এ ধরনের মাছ খালি হাতে না ধরার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


