...|...|...

অর্থনীতি

ফ্যামিলি কার্ডে সাড়ে ২৮ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে মুক্ত হতে পারে: বিশ্বব্যাংক

টাইমস টুুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৪:১১ | আপডেট: ৬ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৪:৫৪
Shares
ফ্যামিলি কার্ডে সাড়ে ২৮ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে মুক্ত হতে পারে: বিশ্বব্যাংক

ফ্যামিলি কার্ডের সাথে বিদ্যমান নগদ সহায়তা কর্মসূচির আরও কার্যকর লক্ষ্য নির্ধারণ এবং একাধিক খাদ্য ভর্তুকি একত্রিত করা গেলে দেশের অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনা সম্ভব হতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ উন্নয়ন হালনাগাদ’ প্রতিবেদনে এ বিশ্লেষণ তুলে ধরেছে সংস্থাটি। এতে সীমিত সরকারি সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা প্রকৃত দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে সবচেয়ে দরিদ্র প্রায় অর্ধেক পরিবারই কোনো না কোনো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাইরে রয়েছে। ফলে সরকারের দেওয়া সহায়তার একটি বড় অংশ প্রকৃত দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। কর্মসূচির সুবিধাভোগী নির্বাচন ও লক্ষ্য নির্ধারণ আরও কার্যকর করা গেলে দারিদ্র্য কমাতে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রভাব বাড়ানো সম্ভব।

সংস্থাটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, একাধিক খাদ্য ভর্তুকি কর্মসূচি একত্রিত করা, বিদ্যমান নগদ সহায়তা কর্মসূচির সুবিধাভোগী নির্বাচন উন্নত করা এবং এর সাথে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ যুক্ত করা হলে অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠতে পারে। এতে সরকারি সম্পদের অপচয় কমার পাশাপাশি প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ বাড়বে।

এ জন্য সরকারের ‘ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির মতে, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রমাণভিত্তিকভাবে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে শনাক্ত করে প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনা সম্ভব হবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৬ অর্থবছরে দেশে দারিদ্র্য ও বৈষম্য বেড়েছে। আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লাখ বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমেছে। একই সময়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি কমেছে এবং বিশেষ করে নারীদের কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকারিতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতি নিয়েও সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশে থাকতে পারে। বিনিয়োগ কমে যাওয়া, রপ্তানি প্রবৃদ্ধির ধীরগতি এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে অর্থনীতিতে চাপ অব্যাহত রয়েছে।

ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, কম রাজস্ব আহরণ ও জ্বালানি খাতের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৬ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের তুলনায় রাজস্ব আদায় ৮ দশমিক ৩ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে খেলাপি ঋণের হার ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের জুনে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে।

তবে শক্তিশালী প্রবাসী আয় ও বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বৃদ্ধির কারণে দেশের বহির্বিশ্বমুখী অর্থনীতিতে কিছুটা স্থিতিশীলতা রয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি এবং সংস্কার কার্যক্রমের গতি বাড়ানো গেলে ২০২৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানবিষয়ক বিভাগীয় পরিচালক জ্যাঁ পেসম বলেছেন, অর্থনৈতিক মন্দা এড়ানো এবং বেসরকারি বিনিয়োগনির্ভর অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে ফিরতে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ ও জ্বালানি খাতে দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন। দরিদ্রদের সুরক্ষা এবং আরও বেশি ও উন্নত কর্মসংস্থান তৈরির জন্য এসব সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি।

বিশ্বব্যাংকের মতে, দরিদ্র মানুষের জন্য সহায়তা বাড়ানোর পাশাপাশি সেই সহায়তা যেন সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।